রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হজ নিবন্ধনে ভাটা, এবারও কোটা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

মহিউদ্দিন রাব্বানি
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

হজ নিবন্ধনে ভাটা, এবারও কোটা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
  • কোটা পূরণে প্রতিদিন দরকার ৬,৬৭৭ নিবন্ধন 
  • বাংলাদেশের হজ কোটা কমার শঙ্কা 
  • আগের চেয়ে কোটা কমেছে ৩৮ শতাংশ 
  • ৭৯ দিনে নিবন্ধন মাত্র ৫ হাজার ৫০ 
  • সর্বনিম্ন প্যাকেজ বেড়েছে ৩৮,৫১১ টাকা

একসময় বাংলাদেশের হজের নির্ধারিত কোটা পূরণ করতেও হিমশিম খেতে হতো না। বরং সৌদি আরবের দেওয়া কোটার বিপরীতে মানুষের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০১৭ সালে সৌদি আরব নির্ধারিত বাংলাদেশের ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের পুরো কোটা পূরণ হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। হজের ব্যয় বৃদ্ধি, মানুষের আর্থিক সক্ষমতায় চাপ, সৌদি আরবে আবাসন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবার খরচ এবং ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। এবার সৌদি আরব বাংলাদেশের কোটা প্রায় ৫০ হাজার কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করলেও সেই কমে যাওয়া কোটাটিও পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ২০২৭ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৫ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৩৪ জন। এবার বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের শেষ দিন। অর্থাৎ হাতে আছে আর মাত্র ১১ দিন।

এই সময়ের মধ্যে পুরো কোটা পূরণ করতে হলে আরও ৭৩ হাজার ৪৫০ জনকে নিবন্ধন করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৬৭৭ জনের নিবন্ধন প্রয়োজন। বর্তমান নিবন্ধনের গতি বিবেচনায় শেষ ১১ দিনে এত বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য হজ এজেন্সি মালিকদের আশা, শেষ দিকে নিবন্ধনের গতি অনেকটা বাড়বে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক হজযাত্রী শুরুতে সিদ্ধান্ত নিলেও টাকা জমা ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তবে এবার কোটা আগেই কমে যাওয়ায় বিষয়টি শুধু নিবন্ধনের সংখ্যা নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হজ কোটার সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।

haj-umrah

কমতে কমতে কোটারও পতন 

বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের হজ কোটা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি হজ পালন করেন এবং ওই বছর পুরো কোটাই পূরণ হয়। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে হজযাত্রীর সংখ্যা কমতে থাকে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে স্বাভাবিক হজ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ২০২২ সালে সীমিত পরিসরে বাংলাদেশের কোটা ছিল ৬০ হাজার। ওই বছর হজ পালন করেন ৫৯ হাজার ৯১৬ জন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ২০২৩ সালে আবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা ফিরে আসে। সে বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন। এরপর ২০২৪ সালে হজ পালন করেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৭ হাজারের কিছু বেশি। আর ২০২৬ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৫০০ জনে।

অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের হজ কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন করা হয়েছে। আগের কোটার তুলনায় কমেছে ৪৮ হাজার ৬৯৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ।

হজ সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবারও যদি নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূরণ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য কোটা আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই এবার কমে যাওয়া কোটাটিও পূরণ করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, আশা করছি যারা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন, তাদের সবাই চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন। বেসরকারিভাবে সাধারণত শেষের দিকে নিবন্ধনের গতি বাড়ে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বেসরকারি হাজিদের নিবন্ধনের গতি বাড়বে বলে আশা করছি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও নিবন্ধনে ধীরগতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কোটা কমে যাওয়ার বিষয়ে ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানান, গত বছর সৌদি সরকার কোটা আরও কমিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের অনুরোধে তা ৭৮ হাজার ৫০০ করা হয় এবং এবারও সেই কোটা বহাল রয়েছে।

tawaf-of-kaabah

খরচের চাপ, বাড়ছে ওমরাহর প্রবণতা

হজের নিবন্ধনে ধীরগতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে ব্যয়। ২০২৭ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। অন্য প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।

২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। তবে ওই প্যাকেজে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এবার খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা যুক্ত হয়েছে। এছাড়া মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ডি ক্যাটাগরি প্রত্যাহারের কারণে ৭০০ রিয়াল এবং বিনিময় হারজনিত ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে।

ফলে বিমান ভাড়া প্রায় ২৫ হাজার টাকা কমলেও সার্বিক হজ ব্যয় কমেনি। বরং সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজের ঘোষিত মূল্য বেড়েছে ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা। বেসরকারি প্যাকেজেও গত বছরের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে।

হাবের এক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব এবারও হজযাত্রায় পড়বে। বিমান ভাড়া কিছুটা কমলেও সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন, মোয়াল্লেম ও ক্যাটারিংসহ বিভিন্ন সেবার ব্যয় বেড়েছে। ফলে হজের সামগ্রিক ব্যয় কমেনি। পাশাপাশি মানুষের আর্থিক সক্ষমতাও আগের মতো নেই।

তার মতে, আগে হজের কোটার চেয়ে চাহিদা বেশি ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো কঠিন।

হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার ওমরাহ পালনের বাড়তি প্রবণতাকেও হজের কোটা পূরণ না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, দেশের কিছু এজেন্সির দালালরা ওমরাহকে ‘ছোট হজ’ হিসেবে প্রচার করেন। এতে অনেকে ওমরাহ করলেই হজের দায়িত্ব পালন হয়ে যায় বলে ভুল ধারণা করছেন।

হাব মহাসচিব বলেন, দুই হজ এক নয়। গত বছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ ওমরাহ করেছেন। ওমরাহ না করলে এর একটি বড় অংশ হয়তো হজে যেতেন। তাতে আমাদের কোটা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হতো।

তবে হজ সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করেন, শুধু ওমরাহর প্রবণতা দিয়ে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পুরো কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। হজের ব্যয়, মানুষের আয় ও সঞ্চয়ক্ষমতা, সৌদি আরবে সেবার মূল্য বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে।
হজের নিবন্ধনে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টিও ধীরগতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বেসরকারি এজেন্সি মালিকরা। 

দীর্ঘদিন হজের কাজের সঙ্গে জড়িত সাইফুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে নিবন্ধনের নিয়ম করায় অনেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশেষ করে বিমান ভাড়া বাবদ বড় অংকের টাকা আগেই নেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে।

শেষ ভরসা শেষ সময়ের নিবন্ধন

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীকে নিবন্ধনের আওতায় আনা। ধর্ম মন্ত্রণালয় অবশ্য সময় বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, যারা হজে যাবেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়ত করে রাখেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন করবেন বলে আশা করছি।

নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি আরবের একটি নির্ধারিত রোডম্যাপ রয়েছে। কোন সময় কোন ধাপ সম্পন্ন হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এরপর সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ, টিকা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে আগামী বছরের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত ৭০২টি হজ এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ সপ্তম পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে যোগ্য ২২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ছয় দফায় ৬৮০টি এজেন্সিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমোদিত এজেন্সিগুলো ৩০টি লিড এজেন্সির অধীনে হজযাত্রী পাঠাতে পারবে।

চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১৫ মে ২০২৭ সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজের ভিসা দেওয়া শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ ১১ দিনে নিবন্ধনের গতি কয়েক গুণ বাড়লে বর্তমান চিত্র বদলে যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে হজের জন্য মানুষের আগ্রহের চেয়ে সামর্থ্যের সংকটই বড় হয়ে উঠছে। আর এই বাস্তবতা অব্যাহত থাকলে শুধু এবারই নয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হজ কোটার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

হজ ও ওমরা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছেন মাওলানা শহীদুল ইসলাম। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, এবারের হজের কোটা পূরণ করা চ্যালেঞ্জ হবে। তবে আগামী বছর হজে যাওয়ার আগ্রহী যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, এবার যাত্রীসংখ্যা কম হলে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৮ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশের হজের কোটা আরও কমিয়ে দিতে পারে। তখন আগ্রহী যাত্রী থাকলেও সবাই নিবন্ধনের সুযোগ নাও পেতে পারেন। এতে নতুন করে একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

মাক্কি-মাদানি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বছর হজের নিবন্ধন এবং প্রাক নিবন্ধনের গতি কিছুটা কম। তবে আজ রোববার শেষ হলে বোঝা যাবে ফ্লো কোন দিকে যাবে। কারণ আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস।

তিনি বলেন, একটা বিষয় হচ্ছে, হজ গমনেচ্ছুকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর কিছু যাত্রী কমবে। কারণ অনেকে প্রাক নিবন্ধন এবং নিবন্ধন ইস্যুটি বোঝেন না। প্রাক নিবন্ধনে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে করতে হয়। আর চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। ফলে অনেকেই ২৪ সেপ্টেম্বর এরমধ্যে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে ভেবেই বসে আছেন। তারা ভাবছেন এখন ৩০ হাজার টাকা দেবেন। পরে আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে বাকি টাকা দেবেন।

তিনি জানান, শুরুতে প্রতি বছর এই নিবন্ধনের হারটা কম থাকে। শেষ দিকে নিবন্ধন গতি বেড়ে যায়। সে হিসেবে এ বছরও তিনি আশা করেন ৭০ হাজার অধিক হজ যাত্রায় নিবন্ধন করবেন।

সময় বাড়ানো হবে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে এবছর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে না। কারণ সৌদি সরকার চাচ্ছে হজ নিবন্ধনের সংখ্যা অনুযায়ী তারা সেভাবে ব্যবস্থাপনা আনুষাঙ্গিক কাজ সারবে। ফলে এই পর্যন্ত সময় না হলে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

হজের খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা হয়েছে যে, এই বছর হজের ফজর খরচ কমবে। কিন্তু ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। গত বছর আমরা নিবন্ধনে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, এ বছরের ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিচ্ছি। তাহলে খরচ কমল কোথায়।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ অনুবিভাগ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, এখন পর্যন্ত হজের নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা সময় না বাড়ানো হবে, এমনটা ধরে নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ফলে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আগ্রহীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

এই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন নিবন্ধন করেছেন। তবে এর মাধ্যমে চূড়ান্ত নিবন্ধনের প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে না। সাধারণত দেখা যায়, যারা প্রাথমিক নিবন্ধন করেন, তাদের অধিকাংশই শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। অনেকেই নিবন্ধনের শেষ দুই-চার দিন আগে টাকা জমা দেন। আগের বছরগুলোতেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে।

প্রাথমিক নিবন্ধনকারীদের চূড়ান্ত নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, প্রাথমিক নিবন্ধনকারীদের ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করেন। এ কারণে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের সংখ্যা কম দেখে চূড়ান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করা ঠিক হবে না।

এজেন্সিগুলো ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এজেন্সিগুলোর নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই প্রাথমিক নিবন্ধনের পর নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হচ্ছে। টাকা জমা না দিলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে না। তাই এ ক্ষেত্রে এজেন্সিগুলোরও করার তেমন কিছু নেই।

চলতি বছর বাংলাদেশের হজের কোটা পূরণ হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, হজের কোটা পূরণ হবে কি না, সেটি অনেকাংশেই সৌদি সরকারের নির্ধারিত রোডম্যাপ ও সময়সূচির ওপর নির্ভর করে। আমরা আমাদের ইচ্ছামতো সবকিছু করতে পারি না। সৌদি সরকারের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুসরণ করেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

এমআর/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর