জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এক ভারতীয় সাংবাদিক। তিনি অনেকটা কড়াভাবে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো দেশের জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরে দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিক জানতে চান, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিংবা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি দল অংশ নেবে কি না। জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে কোনো জাতীয় কাজ নিয়ে আসিনি।’
মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেয়ে আলাদা। এই দায়িত্বে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের পক্ষ নেবেন না; বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়াতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।
জাতিসংঘের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, জাতিসংঘকে তিনি কখনো প্রতিনিধি হিসেবে, আবার কখনো কর্মী হিসেবে কাছ থেকে দেখেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জটিলতা সম্পর্কে তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, আমি এই সংস্থাটিকে প্রতিনিধি হিসেবে দেখেছি। আবার কর্মী হিসেবেও দেখেছি। তাই সম্ভবত আমি বলব, আমি এটি ৩৬০ ডিগ্রি কোণ থেকে প্রত্যক্ষ করেছি।
জাতিসংঘের মহাসচিবের ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
আরও পড়ুন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন ড. খলিলুর রহমান
‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে অন্য কারও উদ্বেগের অবকাশ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো দ্বিপাক্ষিক বা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করবেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব না হলেও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের মূল আকাঙ্ক্ষা নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রোহিঙ্গা শিবিরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব শেষে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে এলেন বাংলাদেশের এই কূটনীতিক। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
জেবি




