মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: বিশেষজ্ঞরা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে হয়ে থাকে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার। তাই শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়ন ছাড়া অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।

বৈঠকে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি এসডিজি বিষয়ক কৌশলগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

বৈঠকে জানানো হয়, তামাক ব্যবহারজনিত বিভিন্ন রোগে দেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। ফলে এসডিজির স্বাস্থ্যবিষয়ক তৃতীয় লক্ষ্য অর্জনে তামাক অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু স্বাস্থ্য নয়, দারিদ্র্য নির্মূল, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, পরিবেশ, জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ এসডিজির প্রায় সব লক্ষ্য অর্জনেই তামাকের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যকে আইনের আওতার বাইরে রাখা উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব পণ্যের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ এ ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও সদ্য সংশোধিত আইনের আওতায় দ্রুত প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। 

পাশাপাশি তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ থেকে আইন ও নীতি সুরক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (এফসিটিসি) ৫.৩ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে এসডিজি অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।

বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের কষ্ট আমাদের চোখের সামনে তামাকের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। তামাকের ছোবল থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, এসডিজি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সম্পৃক্ত করে গণমাধ্যমে আরও বেশি খবর প্রকাশ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর