ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সদর দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজের ঘটনায় মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে অথবা তারা স্বজনদের কাছে ফিরে গেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু।
মহিলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১ হাজার ৯৭০ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
সংগঠনটির মতে, গত সাত মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশু গুম ও নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে ঘটায় মানুষের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনা দেশের সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সন্ধান না পাওয়া শিশুরা মানবপাচারকারী কোনো দলের হাতে পড়েছে কি না, কিংবা কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও সংশয় তৈরি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলার সময়, বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে, নানা ধরনের প্রলোভনে পড়ে কিংবা অচেনা জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে অনেক শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। এসব ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়ার মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি জোরদার এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজের নেপথ্যে থাকা অপরাধী সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
এএইচ/এআরএম




