মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

১৫০ টাকার লাঞ্চে ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

১৫০ টাকার লাঞ্চে ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা; জাতীয় সংসদে এমন প্রশংসা করছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একপর্যায়ে তাঁর কথার জবাবে প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়ে ইশারা করে বলেন, ‘আসুন, খাওয়াব।’ তবে দাওয়াত পেয়ে শফিকুর রহমান জানান, তিনি একা খেতে চান না, ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়েই খেতে চান।

সোমবার জাতীয় সংসদে ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনায় এ কথোপকথন হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনযাপনের প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তিনি সাদামাঠা জীবন যাপন করেন, সুন্দর। একেবারে পস, স্যুটেড-ব্যুটেড নয়। প্লেইন পথে চলেন। এটা উৎসাহিত হওয়ার মতো বিষয়।’

আরও পড়ুন: আগামীর অর্থনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য: ডা. শফিকুর রহমান

এরপর প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা উৎসাহিত হই যখন দেখি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না। একদম প্লেইনলি বলতেছি।’

শফিকুর রহমানের এ মন্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই বলেন, ‘আপনাকে খাওয়ানো হবে।’ তিনিও প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘খাওয়ায় দেবেন? অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ এই প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রশংসা করলেও তাঁর অনুসারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যারা আইকন হিসেবে মানেন, তাঁদের তাঁর জীবনযাপন অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

আরও পড়ুন: আপনারা দেশ ধ্বংস করবেন আর বিরোধীদল আঙুল চুষবে: শফিকুর রহমান

শফিকুর রহমান বলেন, ‘কিন্তু তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) জীবনযাপন নিয়ে অ্যাপ্রিসিয়েশন করতে দেখি, তারা আবার উল্টোপাল্টাও চলেন। তিনি যদি এসব মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তো তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। সকল ক্ষেত্রেই তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। এটা তো আমরা দেখি না। আমরা ঠিক তার বিপরীতটা দেখি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এখন থেকে আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর আইকন বললে তাঁকে ফলো করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও মানুষ। তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর সবকিছুতে হ্যাঁ বলা যাবে না। হ্যাঁ বলা যাবে কেবল শিশুদের দাবিতে। তারা যা বলবে, তাতে হ্যাঁ বলা যাবে।’

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর