সরকারি প্রটোকল নেই। নেই কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততা। অনেকটা সাধারণ পর্যটকের মতোই সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়ালেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
শুক্রবার ও শনিবার (২৮ ও ২৯ আগস্ট) দুই দিন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় সময় কাটান তিনি। স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে হাউজবোটে চড়ে ঘুরেছেন টাঙ্গুয়ার হাওর। পাশাপাশি ঘুরেছেন নীলাদ্রী লেক, লাকমাছড়া, জাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান ও শহীদ সিরাজ লেক।
এ সময় বন্ধুদের সঙ্গে নদী ও হাওরের পানিতে নেমে গোসলও করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে অনেকটা নির্ভার সময় কাটান তিনি।
ঘোরাঘুরির ফাঁকে পর্যটক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন হাবিবুর রশিদ। তাদের সঙ্গে ছবিও তোলেন। পাশাপাশি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
প্রতিমন্ত্রীর এই প্রটোকলবিহীন ভ্রমণের বিষয়টি সামনে আনেন পর্যটন উদ্যোক্তা এবং আটলান্টিস ও ফ্যালকন হাউজবোটের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার হামিদ। নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রীর ভ্রমণের বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার এক পোস্টে ইফতেখার হামিদ লিখেন, ‘মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ১৯৮৮ ব্যাচ ও নটরডেম ১৯৯০ ব্যাচের বন্ধুরা ঘুরতে এসেছে আজ Atlantis-The Infinity House Boat-এ। বন্ধুদের মধ্যে একজন বুকিং করেছেন আমাদের, তিনিও জানান নাই যে আমাদের ট্রিপে আজ একজন প্রতিমন্ত্রী আছেন। সকল পরিচয় ঢাকা রেখেই ট্রিপে এসেছেন শুধুমাত্র ৮৮ ব্যাচের বন্ধু পরিচয়েই।’
আরও পড়ুন:
‘কাগজের নৌকা’য় চড়ে শীতের সুনামগঞ্জ ভ্রমণ
শনিবারের আরেক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘গতকাল শুক্রবার স্কুল বন্ধুদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে এসেছেন রেল ও সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব ভাই। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি লাকমাছড়া ভিজিট করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী আমাদের বিজিবি সদস্যদের। আজ সকালে তিনি ও তার বন্ধুরা শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রী) ঘুরতে যান। এই সময় ঘুরতে আসা পর্যটকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।’
ইফতেখার হামিদ আরও লিখেন, ‘কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়া একজন স্টেট মিনিস্টার ঘুরতে এসেছেন হাওরে। টিম Atlantis-The Infinity House Boat-ও জানতেন না মন্ত্রী আসবেন।’
প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণ প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, ‘পুরো ট্রিপে তিনি (প্রতিমন্ত্রী হাবিব) খুব প্রাণবন্ত আর হাস্যমুখ ছিলেন। উনার হাস্যরস আর সেন্স অব হিউমার মারাত্মক। মুগ্ধতা ছড়ানো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমাদের প্রতিমন্ত্রী হাবিব ভাই।’
গত বছরও টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে গিয়েছিলেন হাবিবুর রশিদ। সেবারও আটলান্টিস ও ফ্যালকন হাউজবোটে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না।
ইফতেখার হামিদ শনিবারের পোস্টে লিখেন, ‘আমাদের হাউজবোটে তিনি গতবছর ঘুরে গেছেন উনারা রাজনৈতিক বন্ধুদের নিয়ে, এই বছর এসেছেন আইডিয়াল স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে।’
সাধারণ পর্যটকের মতো প্রতিমন্ত্রীর হাওরে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা করছেন নেটিজেন ও পর্যটন উদ্যোক্তারা।
টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোট মালিকদের সংগঠন হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও প্রতিমন্ত্রী ও তার বন্ধুদের ভ্রমণের একাধিক ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছে।
‘সাদামনের মানুষ ও টাঙ্গুয়ার হাওরের মুগ্ধতা!’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে সংগঠনটি লিখেছে, ‘কোনো প্রকার বাড়তি প্রটোকল বা ভিআইপি নিরাপত্তার আড়ম্বর নেই। একেবারে সাধারণ একজন পর্যটকের মতোই বন্ধু সার্কেল নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের জল-জোছনা ও প্রকৃতির অপার সান্নিধ্যে ভেসে বেড়ালেন ঢাকা-৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব।’
সংগঠনটি আরও লিখেছে, ‘গতবছরও তিনি (হাবিবুর রশিদ) টাঙ্গুয়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ঘুরে গিয়েছিলেন। এবারও তার এই সাদামাটা ও বিনয়ী উপস্থিতি আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। হাউজবোটের ছাদে সাধারণের মতো সময় কাটানো কিংবা হাওরের প্রকৃতিতে বন্ধুদের সাথে মেতে ওঠার এই অনাড়ম্বর রূপ সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক।’
বাংলাদেশের অনন্য এই হাওর পর্যটনকে আরও জনপ্রিয়, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও তারকাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ‘আপনারাও কাজের ব্যস্ততা ঠেলে মাঝে মাঝে ঘুরে যান টাঙ্গুয়ার হাওরের নির্মল পরিবেশে। আপনাদের উপস্থিতি যেমন হাওরের সৌন্দর্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তেমনি স্থানীয় পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পকেও করবে আরও সমৃদ্ধ।’
এএম




