শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কপ-১৭ ঘিরে ৪ দেশের সঙ্গে পরিবেশ, বাণিজ্য ও শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

কপ-১৭ ঘিরে ৪ দেশের সঙ্গে পরিবেশ, বাণিজ্য ও শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ মোকাবিলা কনভেনশনের (ইউএনসিসিড) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ-১৭) চলাকালে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

এসব বৈঠকে ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকগুলোতে পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সফল উদ্যোগ থেকেও বাংলাদেশ শিখতে আগ্রহী।

IndoBD

২৪ আগস্ট ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, খরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও উঠে আসে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, ভূমি-সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি এবং পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

MongoBD

মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাতসেতসেগ বাতমুনখের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশে দূতাবাস খোলার মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও তৈরি পোশাক মঙ্গোলিয়ায় রফতানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া মঙ্গোলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্মাণ, সেবা ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

AfroBD

২৬ আগস্ট আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে বৈঠক করেন পরিবেশ মন্ত্রী। এতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের আন্তঃসম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

জলবায়ুজনিত মানব চলাচলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরেও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সানদাগ-ওচির সেন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সক্ষমতা উন্নয়নকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশ মঙ্গোলিয়ার চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ ও খরা সহনশীলতার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে জলাভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল ও কমিউনিটিভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়।

এ ছাড়া জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, খরা পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিবেশ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কপ-১৭-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নতুন মাত্রা পাবে।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর