রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে এক প্রবাসীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মোহাম্মদপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শান্ত ও বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল।
যুবককে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং এর হোতা ও চক্রের চার সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়। তার হলেন— মুন্না ওরফে ক্যাপ্টেন মুন্না, রাসেল ওরফে আন্ডা রাসেল, বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল ও গালকাটা সাইফুল। এ ছাড়াও, কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এডিসি জুয়েল রানা জানান, মোহাম্মদপুর লিমিটেড এলাকায় এক যুবককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনার পর আমরা অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে দুইজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছি। এর মধ্যে বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লালকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মূলত ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনা। আসামিদের গ্রেফতার করার পর আমরা জানতে পারি, আহত প্রবাসী যুবক লস্কর হৃদয় কয়েক বছর আগে মোসা. হাফসা আক্তার নামে একজনকে বিয়ে করে। সে বিয়ে করার পর ক্যাপ্টেন মুন্না নামে একজনের সঙ্গে হাফসার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সময় হাফসা ক্যাপ্টেন মুন্না নামক কিশোর গ্যাং লিডারের সঙ্গে পালিয়ে তাকে বিয়ে করে। এই ঘটনার তিন বছর পর লস্কর হৃদয় সৌদি আরবে চলে যায়। কিন্তু হৃদয় আর হাফসার মধ্যে গোপন সম্পর্ক থাকে।
হৃদয় সৌদিতে যাওয়ার পর ক্যাপ্টেন মুন্না তাকে ফোন দিয়ে হাফসার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে। কিন্তু হাফসা হৃদয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করত।
তিনি আরও বলেন, মুন্না হাফসাকে পালিয়ে এনে বিয়ে করার পর হাফসার পূর্বের স্বামী হৃদয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কের মধ্যে মুন্না হৃদয়কে ফোন দিয়ে হুমকি দেয়। কিন্তু হাফসা ও হৃদয় তাদের সম্পর্ক বজার রাখে। ইতোমধ্যে হৃদয় ছুটিতে দেশে এসেছে। এই খবর শুনে ক্যাপ্টেন মুন্না হৃদয়কে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
হৃদয় আহত হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একেএস/এফএ




