জাতীয় নির্বাচনে নারীদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিবন্ধন হারাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৫ অগাস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬’ এর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের বাদ দেওয়া। আইন বানানোর এখতিয়ার সংসদের, আর তা বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে নিয়ম মেনে অংশ না নিলে দলগুলো বাছাই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রাখতে হবে। দলগুলো যদি ৩০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনন্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভায়োলেন্স চায় না। দেশের স্থানীয় নির্বাচনে বেশি সহিংসতা হয়। তবে, নমিনেশন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন তা নয়, নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ফ্রি ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি) জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ পর্যবেক্ষণ করে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং কিছু সুপারিশ তুলে ধরে। সংস্থাটি তাদের রিপোর্টে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য নির্বাচনের চেয়ে ভালো থাকলেও নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ কম ছিল।
এই সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম সামনের নির্বাচনগুলো নিখুঁত করতে ইসির নির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান থাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ফান্ড সংগ্রহের ওপর জোর দেন।
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন ভোট গণনায় বিলম্ব ও কিছু কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের অনিরপেক্ষতার অভিযোগ তুলে বলেন, এতে তাদের দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে প্রচারণার সুযোগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জানান, ভবিষ্যতে তার দলের হয়ে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।
এমএইচএইচ/এফএ




