রাজধানী ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরই মধ্যে ৫৫ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৫০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব তথ্য জানান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সবার সহযোগিতায়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে দীর্ঘমেয়াদি সবুজায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে এসেছে। একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘নগরীর সবুজায়ন কর্মসূচিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ডিএনসিসি আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাখালী, ফার্মগেট, বিজয়নগরসহ প্রধান সড়কগুলোর সড়ক বিভাজকে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কর্মসূচির আওতায় ৫০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সরাসরি রোপণ করা গাছের পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সুরক্ষায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের উৎসাহিত করতে পরবর্তীতে বৃত্তির আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এভাবে পরিবেশ সুরক্ষার কাজে যুক্ত করা একটি মহৎ ও দূরদর্শী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধও তৈরি হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘সবুজায়নের পাশাপাশি ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। শুধু সিটি করপোরেশনের একক প্রচেষ্টায় একটি মেগাসিটিকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।’
তিনি নগরবাসীকে রাস্তায় ও যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল, ওয়ানটাইম কাপ, টিস্যু, পানির কনটেইনারসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানান। নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ রূপকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জহুরুল আলম, ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এমআই




