শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ
ফাইল ছবি

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নিহত হন। এ ছাড়া শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের সমাবেশে একের পর এক গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। হামলায় তিনি আহত হলেও প্রাণে রক্ষা পান।

ঘটনার পর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই মামলার তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল।

২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলাগুলোর তদন্ত নতুন করে শুরু হয়। ২০০৮ সালে সিআইডি দুই মামলায় ২২ জনকে আসামি করে পৃথক অভিযোগপত্র দেয়। পরে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্রে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। 

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ দুই মামলার রায় দেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

Granade

তবে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

আপিল বিভাগ জানান, তথ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনি বিষয় পর্যালোচনায় হাইকোর্টের রায়ে কোনো দুর্বলতা বা বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও আপিল বিভাগ সেই পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আদেশের অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশনাও বাতিল করা হয়।

২১ আগস্টের সেই নারকীয় হামলার ২২ বছর পরেও দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার স্মৃতি হয়ে আছে।


প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর