বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এআই ব্যবহারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে প্রতারণা, দুই যুবক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

এআই ব্যবহারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে প্রতারণা, দুই যুবক গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত তানভির আলম ওরফে রাহাত ও মো. নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক

‎ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রির অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী  পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

‎গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো– তানভির আলম ওরফে রাহাত ও মো. নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক।

‎সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিজের ছবি, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানভির ও নূরনবীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন, একটি সিম কার্ড এবং সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেরেবাংলা নগর থানায় করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ফেসবুকে ভুয়া আইডি ও পেজ খুলে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করতেন।

পুলিশ বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় ওই চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করা হতো। এসব ভিডিওতে প্রস্টেটের সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে ‘Prostulin F’ নামের একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে ভুয়া ফেসবুক পেজসহ প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।

‎তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।

‎একেএস/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর