রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়ক-সবখানেই এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া দাপট। এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক আহত হচ্ছেন, এমনকি ঝরছে প্রাণও।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল মিলছে না।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বাবার সঙ্গে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে আদিয়ান আল আহসান নামের এক শিশু শিক্ষার্থী। একটি দাঁড়িয়ে থাকা রিকশার সঙ্গে চলন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার সংঘর্ষে তার পা ভেঙে যায়।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার বাঁ পায়ের পাতার হাড়ে আঘাত লেগেছে। পরে পায়ে প্লাস্টার করে তাকে এক সপ্তাহের জন্য বিছানায় পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
জানা গেছে, আদিয়ানদের বাসা সায়েদাবাদের জনপদ মোড়ের কাছে। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স কিন্ডারগার্টেন স্কুলের আপার কেজির শিক্ষার্থী সে। অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও বাবার সঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল সে। ক্লাস শেষে দুপুরে বাবার সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে বাসায় ফিরছিল। বাসার কাছাকাছি পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আদিয়ানের বাবা মো. আহসান মিয়া বলেন, ‘বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি, আরও খারাপ কিছু হতে পারত। তবে ছোট্ট ছেলেটার এত বড় কষ্ট হচ্ছে দেখে খারাপ লাগছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তে তাকে বুকের মধ্যে টেনে জড়িয়ে ধরেছিলাম, কিন্তু রিকশার হুডের সঙ্গে ওর পা আটকে চাপ খেয়ে পাতায় আঘাত লেগেছে। বাচ্চাটা খুব কষ্ট পেয়েছে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘আমরা আসলে এসব ব্যাটারি রিকশার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। ইচ্ছে করলেও সাধারণ পায়ের রিকশা পাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়েই বিপজ্জনক ব্যাটারিচালিত রিকশায় উঠতে হয়। এগুলো অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চালানো হয়। জনগণের নিরাপত্তা স্বার্থে সরকারের উচিত এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’
বিইউ/এমআই




