স্টিয়ারিংয়ে দুই হাত শক্ত করে ধরেছিলেন খাদিজা আক্তার। সামনে ব্যস্ত ঢাকা, চারপাশে রিকশা আর বেপরোয়া প্রাইভেট কার। তবু নতুন দায়িত্বের প্রথম যাত্রায় ভয় নয়, তার সঙ্গী ছিল মনোযোগ আর আত্মবিশ্বাস। গন্তব্যে পৌঁছে স্বস্তির হাসিতে তিনি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, নিরাপদে পৌঁছেছি।
রাজধানীতে নারীদের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির পিংক বাসের প্রথম নারী চালকদের একজন হিসেবে এভাবেই শুরু হলো খাদিজার নতুন পথচলা। প্রথম দিনেই ব্যস্ত ঢাকার সড়কে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও আত্মবিশ্বাস ও সতর্কতার সঙ্গে তা সামলে নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণ থেকে নারীদের জন্য বিশেষ এই বাসসেবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর প্রথম যাত্রার চালকের দায়িত্ব পান খাদিজা আক্তার।
প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে খাদিজা বলেন, আসার পথে রিকশা ও কিছু অদক্ষ প্রাইভেট কারের কারণে কয়েকবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পুরো পথজুড়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালিয়েছি বলেই কোনো সমস্যা হয়নি।

ব্যস্ত সড়কে ভারী যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা ও মনোযোগের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, একটি গণপরিবহন চালানো মানে শুধু স্টিয়ারিং ধরা নয়; সময়ানুবর্তিতা, দক্ষতা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
খাদিজা বলেন, সবার দোয়া চাই, যাতে ভালোভাবে গাড়ি চালাতে পারি এবং সমাজের জন্য কাজ করতে পারি। তার মতে, একজন চালকের দায়িত্ব শুধু নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়া নয়, পুরো যাত্রাপথে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
দক্ষ চালক হয়ে উঠতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেন খাদিজা। তিনি বলেন, এক-দুই ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে দক্ষতা অর্জন করা যায় না। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমেই একজন চালক প্রকৃত অর্থে গণপরিবহনের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
আরও পড়ুন: প্রথম দিনেই পিংক বাসে ‘বলাকার’ ধাক্কা
হিজাব পরিহিত নারী হিসেবে ভারী যানবাহনের চালকের আসনে বসা নিয়েও আশাবাদী খাদিজা। তিনি জানান, প্রশিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন। সেই আস্থাই তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।
বিআরটিসির পিংক বাস সেবায় নারী চালক ও নারী কর্মীদের অংশগ্রহণকে তিনি নারীর কর্মক্ষমতার একটি নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এমন উদ্যোগ কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খাদিজা বলেন, এই উদ্যোগ আরও অনেক নারীকে পেশাদার চালক হওয়ার সাহস জোগাবে। একই সঙ্গে রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে নতুন আস্থা তৈরি করবে।
প্রথম দিনের যাত্রা শেষ করে স্বস্তির হাসি নিয়ে গাড়ি থেকে নামেন খাদিজা। সামনে আরও দীর্ঘ পথ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, অনুশীলন ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
এএইচ/এআর




