মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘কারাগারে আয়ের অর্থ পরিবারের কাছে পাঠাতে পারবেন বন্দীরা’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

‘কারাগারে আয়ের অর্থ পরিবারের কাছে পাঠাতে পারবেন বন্দীরা’
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী থাকা আসামিদের দিয়ে সাবান তৈরির কাজ শুরু করেছে কারা অধিদফতর। তাদের তৈরি সাবানগুলোই পরে বিভিন্ন কারাগারে বন্দীদের ব্যবহারে দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের কারাগারে ব্যয়ের কিছু টাকা বেঁচে যাচ্ছে। 

এসব সাবান তৈরির কাজে নিয়োজিত বন্দী কারিগররা প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার আয় করবেন। যা তারা নিজের জন্য ব্যয় করার পর বাকি টাকা পরিবারকে পাঠাতে পারবেন। এমন সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরুও হয়েছে।  

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকায় অবস্থিত কারা অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন। 
 
‘কারাগারে থেকেও উৎপাদনমুখী হবে বন্দীরা’

তিনি বলেন, কারাগারকে শুধু শাস্তির জায়গা হিসেবে না দেখে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে খেলাধুলা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বন্দীদের দক্ষতা বাড়াতে ৩৯টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণকে সার্টিফিকেশনের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা বন্দীদের মধ্যে যারা পড়াশোনায় আগ্রহী, তাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একটি কারাগারকে স্টাডি সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কাশিমপুরে বন্দীদের তৈরি সাবান বন্দীরাই ব্যবহার করছে 

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, বন্দীদের উৎপাদনমুখী করতে কাশিমপুর কারাগারে সাবান তৈরির কারখানা চালু করা হয়েছে। সেখানে বন্দীরাই সাবান তৈরি করছেন। পরে এসব সাবান কারাগারে বন্দীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের বাইরে থেকে সাবান কেনার খরচ কমছে।  

কারা বন্দীরা ভেতরে আয় করে পরিবারকে পাঠাতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দীরাও উৎপাদনের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। 

সংশ্লিষ্ট বন্দীরা মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। নিজেদের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্যও অর্থ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। এ কাজে বন্দীদের আগ্রহ ব্যাপক। প্রায় ২০ হাজারের মতো আবেদন করেছেন। কাজের সুযোগের তুলনায় আগ্রহী বন্দীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এতে করে তাদের পরিবারগুলো কিছুটা সাপোর্ট পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত দুই বছরে নেওয়া এসব উদ্যোগ কোনো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়। দীর্ঘমেয়াদি কারা সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

কারাগারকে আরও আধুনিক, নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক করতে একের পর এক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে কারা অধিদফতর। খাদ্যবর্জ্য থেকে বায়োফুয়েল ও বায়োফার্টিলাইজার তৈরি, ক্যাশলেস কারাগার, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, অনলাইন সাক্ষাৎ, এআইনির্ভর সিসিটিভি, ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স, ভার্চুয়াল কোর্ট এবং বন্দিদের কর্মমুখী করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমআইকে/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর