চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির স্বাক্ষরিত পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
বাপার নেতৃবৃন্দ বলেন, হংকং কনভেনশন বাস্তবায়নের রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও অধিকাংশ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এখনও পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তার মানদণ্ড মানা হচ্ছে না। কিছু গ্রিন ইয়ার্ড গড়ে উঠলেও সিংহভাগ ইয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ ও সনাতন পদ্ধতিতে জাহাজ কাটা চলছে।
তারা বলেন, এর ফলে উপকূলীয় পরিবেশ, মাটি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিক প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া বিষাক্ত গ্যাস ও অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে এসে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে গত ১৩ বছরে চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এএইচ/এফএ




