শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শিশুদের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবকে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

শিশুদের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবকে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান
জাতীয় প্রেসক্লাবের শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসে

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে জাতীয় প্রেসক্লাবকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘বর্ষা উৎসব’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রতি শুক্রবার শিশুদের জন্য যেসব আয়োজন করা হচ্ছে, সেগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা যেতে পারে।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে গান, নাচ, কবিতা, আবৃত্তি ও গল্প বলাসহ শিশুদের প্রতিভা বিকাশের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি একাডেমি বা ‘শিশু বিকাশ কেন্দ্র’ গড়ে তোলা যেতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শিশুদের সার্টিফিকেশন কোর্সের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ উদ্যোগকে জাতীয় শিশু একাডেমির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা সহজ হবে।

শিশুদের প্রতিযোগিতামুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহযোগিতায় শিশুদের প্রতিভা তুলে ধরা যেতে পারে। এতে শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তানদের বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আরও উৎসাহিত করবেন।

তিনি বলেন, শুধু সাংবাদিকদের সন্তান নয়, বাইরের শিশুরাও যেন এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, সে জন্য এনরোলমেন্টের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুদেরও এসব কার্যক্রমের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে— শিশু, তরুণ, মধ্যবয়সি কিংবা প্রবীণ কেউ নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এই ভূখণ্ডের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি।’ এই পরিচয়ে পরিচিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ— এই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে হবে।

শিশুদের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবের এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, শিশুদের বিনোদন ও সৃজনশীলতার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের পারফরম্যান্স ও অংশগ্রহণ অভিভাবকদেরও উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ পলি ও মোহাম্মদ মোমিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিএফইউজের মহাসচিব এবং ‘বর্ষা উৎসব’-এর আহ্বায়ক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব সবসময় সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরাই আগামী দিনে দেশ ও বিশ্ব পরিচালনা করবে। তাই তাদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুরা ভেজা মাটির মতো— শৈশবে যা শেখানো হয়, তা-ই তাদের মনে গেঁথে যায়। ছবি আঁকা, গান, নাচসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ছবি আঁকার মাধ্যমে শিশুর কল্পনা, চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

মোবাইল ও ট্যাবের আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রেখে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারবে এবং তাদের প্রতিভা দেশ, জাতি ও বিশ্বের কল্যাণে কাজে লাগবে।

অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কাওয়ালি সন্ধ্যা।

এমএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর