বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শিশু বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

শিশু বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
ঢাকায় আয়োজিত ‘শৈশবের জন্য করণীয়: শৈশব এবং ধরিত্রীকে সুরক্ষিত রাখা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে অতিথিবৃন্দ। ছবি- সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও প্রারম্ভিক বিকাশ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খাতের নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় ‘শৈশবের জন্য করণীয়: শৈশব এবং ধরিত্রীকে সুরক্ষিত রাখা’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে বক্তারা এই তাগিদ দেন। বাংলাদেশ আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে সহযোগী ছিল আরনেক ও সমষ্টি এবং মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। জলবায়ু সংকটসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৃতি বন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ও মানবিক জাতি গঠনের জন্য শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

নীতি সংলাপে মূল প্রবন্ধে বেনের সহ-সভাপতি মাহমুদা আক্তার উল্লেখ করেন, ‘শিশুর জন্মের পর প্রথম এক হাজার দিন শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। যথাযথ পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিশুর সারাজীবনের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।’

অনলাইনে যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেন বেনের চেয়ারপারসন ড. মনজুর আহমেদ। এছাড়া ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুজান ভাইজ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এস এম রহমতউল্লাহ ভূঁইয়া এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর নিশাত সুলতানাসহ অনেকে সংলাপে মতামত দেন।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিশুদের ওপর। তাই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, মানসম্মত পরিচর্যা এবং শিশু-কেন্দ্রিক জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সংলাপে।

বিইউ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর