ক্ষতিকর ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের প্রভাব থেকে যুব সমাজকে রক্ষা এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) অনুসারে বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ডব়্প তামাকবিরোধী যুব প্রতিনিধিরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর-ডব়্প আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুব সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক যুব সম্মেলনে এই দাবি জানায় শতাধিক তামাকবিরোধী যুব প্রতিনিধিরা।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতার উজ-জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। ’
তিনি বলেন, ‘দেশের যুবসমাজই আগামী দিনের নেতৃত্বের মূল শক্তি। তাই ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। ’
তিনি বলেন, ‘এসব পণ্যের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে যুব প্রতিনিধিরা যে উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরেছেন, তা আমাদের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। এই ধরনের যুব উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’
স্বাগত বক্তব্যে ডব়্প-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়াসহ কমপক্ষে ১৬টি দেশ জনস্বাস্থ্য ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করেছে। অথচ বাংলাদেশে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)-এর ওপর কর আরোপ করা হয়েছে, যা এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ’
তিনি জানান, নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও তরুণদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে ডব়্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান বলেন, ‘প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে দেশে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। ’
তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যেসব তরুণ ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের পরবর্তীতে সাধারণ সিগারেট বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি তিন গুণ বেশি। এ বাস্তবতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং নতুন ও উদীয়মান নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
যুব প্রতিনিধিরা বলেন, নিকোটিন পাউচে উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে, যা তীব্র আসক্তি সৃষ্টি করে এবং শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশসহ হৃদ্যন্ত্র ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে, ই-সিগারেটের অ্যারোসল বা বাষ্পে ফর্মালডিহাইড, আর্সেনিক, সীসা ও প্রোপিলিন গ্লাইকলের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা ইভালির মতো গুরুতর ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর স্টাডি অব লাং ক্যান্সারের মতে, ই-সিগারেট ‘পপকর্ন লাং’-এরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে নিকোটিন পাউচ, ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা জরুরি।
বিইউ/এএম




