বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝে পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। পাশাপাশি দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোরও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট)রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ আয়োজিত ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, ‘দেশের নিজস্ব ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি। আধুনিক যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও বাংলাদেশের নেই। আমরা এখন ড্রোন কিনতে হয়। আমাদের একটা ড্রোন বানানোর সক্ষমতা নেই। আমাদের ব্যালিস্টিক টেকনোলজি বলে কিছু নেই। অথচ আমরা যে শক্তিশালী রাষ্ট্র হতে চাই, সেই লক্ষ্যে যে ধরনের সামরিক সক্ষমতা দরকার, তার অনেকটাই আমাদের নেই।’
তিনি বলেন, ‘শুধু বিভিন্ন স্থানে ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করে আধুনিক সামরিক শক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
ইরানের উদাহরণ তুলে ধরে সাবেক প্রেস সচিব বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলেও দেশটি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে। এসব সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশটি বড় সামরিক শক্তির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইরানের নিউক্লিয়ার পাওয়ার নেই। কিন্তু তার ড্রোন টেকনোলজি এত অ্যাডভান্স এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল টেকনোলজি এত অ্যাডভান্স যে এই দুটোকে দিয়েই সে আমেরিকার মতো একটি পরাশক্তি এবং ইসরাইলের মতো একটি নিউক্লিয়ার পাওয়ারের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারছে।’
তুরস্কের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০০ সালের দিকেও তুরস্কের উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল না। কিন্তু গত বছর দেশটি প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করেছে। বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে তুরস্ক অন্যতম শীর্ষ দেশ। প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘আধিপত্য মোকাবিলা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্ব ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি যেহেতু অনেকাংশে বাণিজ্যনির্ভর, তাই যুক্তরাষ্ট্রকে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ইকোনমিক জিও পলিটিক্স কী হচ্ছে, সেটা বুঝতে হবে। আমাদের শক্তির জায়গা কোথায়, দুর্বলতার জায়গা কোথায় সেগুলো জানতে হবে। সত্যিকার অর্থে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা করতে হলে পররাষ্ট্রনীতিতে এক ধরনের ভারসাম্য আনতে হবে।’
মিয়ানমারের কথা তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ। আমাদের অর্থনীতি মিয়ানমারের অর্থনীতির চেয়ে প্রায় চার গুণ বড়। অথচ মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা এয়ার পাওয়ারে পারি না। আমাদের যদি পর্যাপ্ত এয়ার পাওয়ার সক্ষমতা থাকত, তাহলে মিয়ানমার কখনোই ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আমাদের মাটিতে পুশব্যাক করতে পারত না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আকারও প্রয়োজনের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে। দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’
এম/এএম




