সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম ফকির বলেছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমবায় অধিদপ্তর বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সমবায় অধিদপ্তর এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর-ডব়্প-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব়্প-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান পরিস্থিতি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ ধূমপান করে। এছাড়া প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। যেহেতু তামাক নিয়ন্ত্রণকে বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে, তাই সমবায় অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন, ‘তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।’ এ প্রেক্ষাপটে সভার সভাপতি, অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলাম বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) এর ধারা ৪ অনুযায়ী পাবলিক প্লেস (সম্মিলিতভাবে জনব্যবহার্য স্থান) এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সরকারের এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই অংশ।
সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিইউ/এএম




