রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় সাংবাদিকদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় সাংবাদিকদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে হবে’
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চা ছাড়াও ২৪-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সত্য ও ত্যাগকে নাটক-চলচ্চিত্রে তুলে ধরা এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করতে হবে।  

'তরুণ সাংবাদিকদের নিয়মিত সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ গঠন' শীর্ষক এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান বক্তরা।

রোববার (০২ আগস্ট) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে আলোচকগণ বলেন, অপসংস্কৃতি, ভুয়া খবর ও ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক বিশৃঙ্খলা রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং এবং দেশীয় ঐতিহ্যমুখী সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, তরুণ ও শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই। 

বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে 'নতুন কুঁড়ি'-র মতো দেশজোড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে। এ সময়ে তিনি লোকজ ঐতিহ্য (যেমন- পালকি, বায়োস্কোপ) সংরক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটি জাতির আত্মা প্রতিফলিত হয় তার সংস্কৃতি ও ইতিহাসে। শিক্ষা ও লোকজ সংস্কৃতি (ভাওয়াইয়া, উচ্চাঙ্গসংগীত) রক্ষার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমসের আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে ফেরাতে গবেষণাভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর জোর দেন।

দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান বলেন, কোনও রাষ্ট্র ধ্বংস করতে চাইলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হবে, তার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে হবে। যা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ছিল। একটি দেশের সংস্কৃতিকে এ দেশে আমদানি করে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। 

তবে আশার কথা হলো- আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর এই দেশে আবারো সেই জনপ্রিয় ব্যান্ড সঙ্গীতকে কনসার্ট করতে দেখেছি, আবারো ভাওয়াইয়া গানের আসর দেখছি। বর্তমানে সাংস্কৃতিক চর্চা না থাকলে দেশের সুস্থ সংস্কৃতি রক্ষা করা সম্ভব নয় পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট এর কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা বলেন, নৈতিক ও মানবিক জড়িত বিষয়ে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট চেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংবাদ করব। 

সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ হিসেবে লোকজ সংস্কৃতির (ভাওয়াল গীতি, লোকসংগীত, উচ্চাঙ্গসংগীত) চর্চা করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি ও গেমস খেলার আসক্তি দূর করতে প্রয়োজনীয় হুমকিস্বরূপ বিকৃত মস্তিষ্ক এর কার্যক্রম গৃহীত করতে মানুষ আর নিরাপদ নয়। এ লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্ম ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় কাজ করা। 

দৈনিক প্রথম আলো’র স্টাফ রিপোর্টার জনাব নোমান ছিদ্দিকী বলেন, যারা তরুণ সাংবাদিক রয়েছেন তাদের প্রচুর পরিমাণে সাংবাদিকতা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করে, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা এখন হুমকির মুখে। সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় রক্ষায় সমাজে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

বিইউ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর