জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে গত সাড়ে ছয় বছরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন জমা পড়েছে ৬৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ আবেদনই নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি নানা কারণে প্রায় ১৩ লাখ আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যানও করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন প্রয়োজনে নাগরিকরা এনআইডি’র তথ্য সংশোধন করতে আবেদন করে থাকেন। যার মধ্যে সিংহভাগই আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরি উপজেলা পর্যায় থেকে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে আবেদনের ধরন অনুযায়ী জেলা থেকে ঢাকা পর্যন্তও অনেকে আসতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সেসব আবেদন আমরা নিষ্পত্তি করে থাকি।
ইসির এনআইডি অনুবিভাগের তৈরি করা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ আগস্টের পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ৭ মাসে এনআইডি সংশোধনের মোট আবেদন জমা পড়েছে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি। এসব আবেদনের মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৪৬টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধনের ৬৫ শতাংশ আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে, সবচেয়ে কম ‘খ-১’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভূক্ত (ক) ক্যাটাগরিতে জমা হয়েছে ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি আবেদন, যা মোট আবেদনের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
ফলে এই ক্যাটাগরিতেই সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জমা হয়েছে সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত (খ) ক্যাটাগরিতে। এ পর্যায়ে আবেদন সংখ্যা ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন এখতিয়ারভূক্ত (গ) ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ ২ হাজার ৭১৭টি এবং এনআইডি মহাপরিচালকের (ঘ) ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৮টি আবেদন জমা হয়েছে।
অন্যদিকে সহকারি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ক-১) ক্যাটাগরিতে আবেদন সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭২ এবং অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার (খ-১) ক্যাটাগরিতে আবেদন সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ১০টি।
এনআইডি সংশোধনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ; এই ছয় ক্যাটাগরিতে আবেদন নিষ্পত্তি করে থাকে ইসি। এক্ষেত্রে আবেদনের জটিলতা অনুযায়ী ক থেকে ঘ পর্যন্ত ক্যাটাগরি নির্ধারিত হয়। আবেদন জমা পড়ার পর অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে থাকেন।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক
(অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় অনেকের বিভিন্ন চাকরির আবেদন, বিদেশ যাওয়ার জন্য তড়িতভাবে এনআইডি সংশোধনের প্রয়োজন হয়। এসব কারণ উল্লেখ করে আবেদন করলে আমরা তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, তবে যার আবেদনে ব্যাড ইন্টেশন প্রতীয়মান হয়, সেগুলো আমরা বাতিল করে দেই। আবেদন সংশোধনযোগ্য হলে আমরা তা দ্রুতই নিষ্পত্তি করি।
এদিকে এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালককে (নিবন্ধন ও প্রবাসী) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কমিটি সুপারিশ এলে এনআইডি সেবা আরো সহজ ও দ্রুত হবে।
ইসির সবশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটার রয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।
এমএইচএইচ/এআরএম




