রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ, পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ, পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল

তরুণ উদ্ভাবকদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ‘তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।’

রোববার(২ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ কথা জানান।

বিজয়ী দলের সদস্যরা বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী।

উপ-প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এত বড় সাফল্যের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

pm3

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য অসাধারণ গৌরব বয়ে আনায় বিজয়ী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তবে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়া হবে।’

মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, সাক্ষাৎকালে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, রোবটটির অধিকতর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

এমআইএসটির (উদ্ভাবকদের) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তারা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করতে এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করতে আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

অর্থনীতিকে গতিশীল করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রফতানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।

pm2

বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর