জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
তারা বলেছেন, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) উদ্বিগ্ন নাগরিকদের পক্ষে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই গণরায় জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক সিদ্ধান্তে জনগণের মতামতের প্রতিফলন।
তারা বলেন, গণভোটের রায় জুলাই সনদে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে, যা উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্যে যৌক্তিকতা থাকলেও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সাংবিধানিক রূপান্তরের কার্যকর পথ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতি সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, জুলাই সনদে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনগণের দেওয়া রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন: জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, কবি ও দার্শনিক মুসা আল হাফিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সরকার ও রাজনীতি বিতর্ক মঞ্চের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান, কবি ও চিন্তক হাসিব হাওলাদার, স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির (এসএডি) সাবেক সদস্য সচিব আবির বিন জাবেদ, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, রাজনৈতিক কর্মী ইসরাত জাহান ইশা, লেখক ও ইতিহাস-রাজনীতি গবেষক তরিকুল হুদা, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আহনাফ তাহমীদ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফারুকী, নর্থ চায়না ইলেকট্রিক পাওয়ার ইউনিভার্সিটি, বেইজিংয়ের গবেষক ড. জান্নাতুল আরিফ, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট কাউসার আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তফা শাকেরুল্লাহ, কবি ও পার্বত্য ছাত্রকল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা মাহাথির, লেখক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) সদস্য সচিব আ ন ম আয়াশ, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট কাউসার আলম, জুলাই সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবু প্রান্তর, কালান্তর প্রকাশনীর প্রকাশক আবুল কালাম আজাদ, সার্কেল অব কুরআনের পরিচালক শাঈখ হাসান মাহফুজ, লেখক ও সমালোচক মনোয়ার শামসী সাখাওয়াত, কবি মাসুম মুনাওয়ার, কবি তানজীনা ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মশিউর রহমান, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হুমায়ূন শফিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক দিপ্র হাসান, লেখক ও সাংবাদিক আবিদ আজম, ইন্দোনেশিয়ার এয়ারলাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও চালিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা দিহান হাজারী, সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সৌরভ আব্দুল্লাহ, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, দলটির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, কবি ও সমালোচক ইমরুল হাসান, সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের কো-ফাউন্ডার মুহাম্মদ তালহা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, দুবাইয়ের ফাউন্ডার ডিরেক্টর কামাল হোসাইন খান সুমন, আহত জুলাই যোদ্ধা নুরা জেরিন, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের আহ্বায়ক স্মৃতি পাটোয়ারী এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সালমান শরীফ।
এমআর/এআরএম




