শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আবুল কাসেম ফজলুল হককে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

আবুল কাসেম ফজলুল হককে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন

রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হলো খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক আবুল কাসেম ফজলুল হককে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তার দাফন শেষ হয়।

গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হকের জামাতা আনোয়ারুল হাসান।

এর আগে সকালে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, লেখক, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হন এই গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক।  

এদিন সকালে বাংলা একাডেমিতে আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে দুপুরে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে কফিন নামানো যায়নি। 

পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় কলা অনুষদের মূল ফটকে তার কফিনে শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষকদের সংগঠন। দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

এর আগে রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পরিবারের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আবুল কাসেম ফজলুল হক। দ্রুত একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক জীবনের চার দশক অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তিনি।

এই খ্যাতিমানের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হকের লেখা ২১টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে ‘মুক্তিসংগ্রাম’; ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’; ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন ’এর মত বই যেমন আছে, তেমনি আছে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তার ফসল ‘নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি’; ‘যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা’, ‘মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব’; ‘রাজনীতি ও দর্শন’ ‘আশা-আকাঙ্ক্ষর সমর্থনে’; ‘বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’; ‘অবক্ষয় ও উত্তরণ’; ‘রাজনীতি ও সংস্কৃতি: সম্ভাবনার নবদিগন্ত’; ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’।

সাহিত্য নিয়ে তার কাজের মধ্যে ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য ‘; ‘বাঙলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য’, ‘সাহিত্যচিন্তা’; ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে’; ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’; ‘আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’ অন্যতম।

এছাড়া ‘বার্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত: রাজনৈতিক আদর্শ’; ‘বার্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত: রাজনৈতিক আদর্শ’ নামে দুটি অনুবাদগ্রন্থও আছে তার। কয়েকটি বইয়ের সম্পাদনাও করেছেন।

আশির দশক থেকে লোকায়ত নামে একটি মননশীল পত্রিকার সম্পাদনা করে আসছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। আহমদ শরীফ প্রতিষ্ঠিত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখেছেন নিয়মিত।

১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান এই লেখক। বিগত অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আবুল কাসেম ফজলুল হককে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর