২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমাতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলির নির্দেশ দেওয়া বিতর্কিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন কর্মরত আছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে। বিচারের বদলে পুরস্কৃত হওয়া এসব কর্মকর্তার নাম-পরিচয় তুলে ধরে সম্প্রতি ঢাকা মেইলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়া। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৯ মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সারোয়ারকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (০৪ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সূত্র থেকে প্রাপ্ত ৯৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা এবং তাদের বর্তমান পদায়ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়নের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে আসে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাঠে থেকে এই কর্মকর্তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলির নির্দেশ দিয়েছেন।

সেসব কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে একজন ছিলেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সারোয়ার (তালিকার ৫৬ নম্বর)। জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১, ৪ এবং ৫ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৯ হিসেবে ছিলেন।
যদিও শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এপিডি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পোস্টিং অ্যান্ড ডেপুটেশন) অনুবিভাগে কর্মরত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে গুলির নির্দেশ দেওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে ঢাকা মেইলসহ অন্য আরও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর একে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থা। সামনে গুলির নির্দেশদাতা আরও অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিইউ




