সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্থানীয় নির্বাচনে বেসরকারি শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে ভাবছে ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

স্থানীয় নির্বাচনে বেসরকারি শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে ভাবছে ইসি

বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি সংস্থাটি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার কারা হবেন, কীভাবে করা হবে—সেসব বিষয়ে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, সেটি আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আইন-কানুন সংশোধনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সভার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের সব ব্যাপারে আলোচনা হলো। আমরা জানলাম কীভাবে হয়, কতবার হয়। নির্বাচন কোনটা আগে করব, কোনটা পরে করব। তবে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু কীভাবে করব, সার্বিক প্রস্তুতি আছে কি না, তা নিয়ে আজ আলোচনা করা হয়েছে।’  

স্থানীয়_নির্বাচন_ও_শিক্ষক_প্রার্থিতা

ভোট কবে থেকে শুরু হতে পারে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা অক্টোবর ধরে কাজ এগোচ্ছি। অক্টোবরে হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।’ 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মাছউদ বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় নির্বাচন করছি। সুতরাং আমাদের ব্যালট বাক্স প্রস্তুত আছে। প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ হবে, পোলিং অফিসার নিয়োগ হবে, এসবের প্রস্তুতি আছে। তবে কিছু ভোটকেন্দ্র বৃদ্ধি পেতে পারে।’

বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইসির সভায় আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা একটু চিন্তাভাবনা করছি যে সার্বক্ষণিক যারা স্কুলের টিচার, একইসঙ্গে দুটি ফাংশন উনি একসঙ্গে করতে পারবেন কি না। কারণ এখন ইউনিয়ন কাউন্সিলেরও কার্যাবলি হয়েছে।’ 

 

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব না।’ 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে প্রার্থীর অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন। এখানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা পেশাজীবীদের কথা বলা হয়নি।

অন্যদিকে নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা নির্বাচন করতে চাইলে অবসরের সময় থেকে তিন বছর অতিবাহিত হলে তবেই নির্বাচন করতে পারবেন।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে চার হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে তিন হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। ৪৭৬টি আইনি জটিলতা, মেয়াদ পূর্ণ না হওয়াসহ নানা কারণে অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

image

নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সে হিসাবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।

ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে কমিশনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করা হবে। 

image 

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এমএইচএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর