*প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাফির মায়ের আকুল আবেদন
*কেউ আমাকে একটু সাহায্য করুন: মা তানিয়া সিদ্দিকা
*আজ থেকে প্লাটিলেট কমতে শুরু করেছে
*প্লাটিলেট কিনতেই পরিবারের টাকা শেষ
*গত ৯ দিন ধরে আইসিইউতে, জ্ঞান ফেরেনি
*কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে
রাজধানীর কাফরুলে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসায় ফেরার সময় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত রাফি (২৫) এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। গত ৯ দিন ধরে তার জ্ঞান ফেরেনি। কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে আর্থিক সংকটে আগামীকাল থেকে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবার।
বিজ্ঞাপন
আহত রাফির মা তানিয়া সিকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখন আর টাকা নেই। আজ ১৮ হাজার টাকা দিয়ে প্লাটিলেট কিনেছি। বাইরে কিনতে গেলে খরচ আরও বেশি। আগামীকাল থেকে চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই। কেউ সাহায্য না করলে আমার ছেলে বাঁচবে না।

তিনি আরও বলেন, ঢামেক হাসপাতালে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাইরে চিকিৎসা হলে খরচ আরও অনেক বেশি হতো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সন্তানের চিকিৎসায় সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি।
পরিবার জানিয়েছে, গত ১০ জুন রাজধানীর কাফরুল এলাকায় মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসায় ফেরার সময় রাফির মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। সেদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে গত ৯ দিনেও তার জ্ঞান ফেরেনি। আগামীকাল থেকে তার চিকিৎসার খরচ বহন করতেও অক্ষম হয়ে পড়েছে পরিবার। তাই তারা সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ইট দিয়ে চালকের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৩
রাফির মা বলেন, তার অবস্থা এতটাই নাজুক যে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। ডাক্তাররা বলছেন, তার শ্বাসপ্রশ্বাস নেই। তাকে যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাইরে হলে অন্তত ১৫ লাখ টাকা লাগত। আগামীকাল থেকে আমার আর কোনো টাকা নেই। আমি কীভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবো বুঝতে পারছি না। যদি খরচ চালাতে না পারি, আমার ছেলেটা মারা যাবে। প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, আপনি আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।
রাফির মা তানিয়া সিকদার বলেন, ঘটনার রাত থেকেই সে আইসিইউতে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি। তার প্লাটিলেট কমে আসছে। আজ থেকে আমরা প্লাটিলেট দেওয়া শুরু করেছি। একজন সুস্থ মানুষের যেখানে আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ প্লাটিলেট থাকার কথা, সেখানে তার মাত্র ৪৫ হাজারে নেমে এসেছে। ডাক্তাররা প্লাটিলেট দিতে বলেছেন। তার মাথার রক্তক্ষরণ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় ১১ জুন আহত রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়। পরদিন ১২ জুন হামলাকারী পারভেজ ওরফে কালুসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকী একজনকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।
পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাফিকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে পারভেজ। তবে র্যাব বলছে, টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। প্রকৃত ঘটনা কী, তা এখনো রাফির জ্ঞান না ফেরায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে মামলার বাদী ও রাফির চাচা নুর হোসেন বলেন, রাফির অবস্থা খুব ভালো না। তিনি এখনো আইসিইউতে আছেন। ডাক্তাররা আমাদের দোয়া করতে বলেছেন।
তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কাফরুল থানার এসআই সিহাব উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় আমরা পারভেজসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকি একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। যেহেতু রাফির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি, তাই তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতাররা হলেন ফয়সাল ওরফে কালু (২৭), পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। তাদের মধ্যে কালু ছিলেন প্রধান পরিকল্পনাকারী। গ্রেফতার পারভেজ ও কালুর বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, হামলাকারীরা ওই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা। এ নিয়ে বাধা দেওয়ায় রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয় এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ৯ জুন সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে তারা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন তার গতিরোধের চেষ্টা করেন। না থামলে পারভেজ ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
ঘটনার পর তারা বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের কাছে তারা দাবি করে, ওপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। পরে তারা তাকে অটোরিকশায় করে ইব্রাহিমপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পরে এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
এমআইকে/এআর




