রাজধানীর কাফরুলে মোটরসাইকেল চালককে চলন্ত অবস্থায় ইট নিক্ষেপ করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাদক কারবারিদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর দ্বন্দ্বে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার এসব তথ্য জানান।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী পারভেজকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এবং আনোয়ারকে কাফরুলের ইব্রাহিমপুর থেকে গ্রেফতার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ এবং কালুকে একই দিন কাফরুল থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪।
ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ‘মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ১টা ২০ মিনিটে কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ১০০ গজ পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তায় ভূক্তভোগী রাফি মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন, এ সময় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী পূর্ব শত্রুতার জেরে ভুক্তভোগীর মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে ভুক্তভোগীর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যায়। এমন ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুষ্কৃতিকারীরাই ঘটনাস্থল থেকে একটি অটোরিকশায় করে ভুক্তভোগীকে নিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, ‘মামলাটি তদন্তকালে কাফরুল থানা পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত চারজনকে শনাক্ত করে। তারা হলেন- ইট নিক্ষেপকারী মো. পারভেজ, মো. ফয়সাল ওরফে কালু, অটো চালক আনোয়ার হোসেন বাবু ও আমিন। এদের মধ্যে পারভেজ ও আনোয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং কালুকে র্যাব গ্রেফতার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত পারভেজ আগে ভুক্তভোগী রাফির বাসায় ভাড়া থাকত। ভাড়া থাকা অবস্থায় তার সাথে রাফির পরিচয় হয়। পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। এ নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বাসা ছাড়ার পর পারভেজ ও তার সহযোগীরা রাফির বাসায় যাতায়াত করতো এবং বাসার সামনে অবস্থান করতো। যা পারভেজ পছন্দ করে না। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় এ নিয়ে রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে তারা রাফিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন তার গতিরোধের চেষ্টা করে এবং মোটরসাইকেল না থামালে পারভেজ ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর আসামিরা বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং আশপাশের লোকজনকে জানায় যে ওপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছে। পরে তারা রাফিকে অটোরিকশায় করে নিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমপুর এলাকায় ফেলে রেখে চলে যায়।’
একেএস/এমআইকে/এমআই




