বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

চার বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে নিতে লাগবে আড়াই বছর: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

চার বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে নিতে লাগবে আড়াই বছর: সড়ক মন্ত্রী  

আড়াই বছরের মধ্যে রাজধানী ঢাকা থেকে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
 
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 
 
রবিউল আলম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সায়েদাবাদ টার্মিনাল ধাপে ধাপে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার বিপরীত পাশে। গাবতলীর টার্মিনাল যাবে হেমায়েতপুরে।  ৩০০ ফিট এলাকায় একটি ডিপো এবং কাঁচপুরে আরেকটি ডিপো করা হচ্ছে। কাঁচপুরের ডিপোটি পরে টার্মিনাল হিসেবেই ব্যবহার হবে।  

 


 
মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে ওয়ার্কশপের মতো কাজও চলে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে সেখানে রং করা, ডেন্টিং, ইঞ্জিন মেরামতের মতো কাজ করা হয়, যা টার্মিনালের স্বাভাবিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে এসব টার্মিনালকে আলাদা ডিপো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
 
মন্ত্রী আরও বলেন, টার্মিনাল শিফটের কাজ এখনই পুরোপুরি শুরু হয়নি। আপাতত এগুলো ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের আগে টার্মিনালে এসে দাঁড়াবে এবং সময় অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে, স্থায়ী ওয়ার্কশপ হিসেবে নয়। পর্যায়ক্রমে আলাদা ডিপো তৈরি করে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থানান্তর সম্পন্ন করা হবে। 

 


বিজ্ঞাপন


 
মহাখালী টার্মিনালের জন্য উত্তরা বা আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। এর আগ পর্যন্ত ৩০০ ফিট এলাকায় ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেসব বেসরকারি বাস কাউন্টার রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। রাস্তার পাশে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করা হবে।
 
রবিউল আলম  বলেন, ঢাকার বাস ব্যবস্থা রুটভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই রুটে একাধিক মালিকানাধীন বাস আলাদা আলাদাভাবে না চালিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে পরিচালনা করা হবে। এতে নির্দিষ্ট রঙ, মান ও ফিটনেস অনুযায়ী বাস চালানো সম্ভব হবে। এছাড়া ইলেকট্রিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
 
মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টার্মিনালগুলোতে টয়লেট, ফ্যান, অপেক্ষাগারসহ মৌলিক সুবিধা বাড়ানো হবে। এ কাজ সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করবে। পরিস্থিতি উন্নত হলে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও টার্মিনাল উন্নয়নে অংশ নেবে। তিনি বলেন, যাত্রীদের জন্য পরিবেশ উন্নত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টার্মিনাল ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে, তবে পুরো স্থানান্তর শেষ হতে আড়াই বছর সময় লাগবে।
 
বিএসআরএফ-এর সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপে আরও ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

এএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর