বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিদেশে চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

CID Arrested
অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ছবি: ঢাকা মেইল

‎অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধ কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

‎বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানান।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. রাকিবুল হোসেন ও মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী।

‎সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস এর একটি আভিযানিক দল গত ১৭ জুন (বুধবার) নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

জসীম উদ্দিন খান জানান, ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। যোগাযোগকারী পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসাসংক্রান্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করে।

‎প্রথম ধাপে ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠায়। পরবর্তীতে আরও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারক কর্তৃক একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং ‘খাজা মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য যোগাযোগকারীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

‎তিনি জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার ভাগ্নে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে সিআইডি জানতে পারে যে, গ্রেফতারকৃত রনি ইসলাম নিজেকে খাজা মোহাম্মদ আলী নামে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করত। পেজটিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসনসংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিওসহ প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে আসছিল। একই সঙ্গে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়।

‎তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য প্রযুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান করে অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হোসেন ও মো. রনি ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

‎প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে।

একেএস/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর