রাজধানীর মতিঝিল ও দৈনিক বাংলা এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার একদিন পরেই আবারও সেখানে বসে গেছেন হকাররা। ফলে সিটি করপোরেশনের অভিযানে সুফল পাচ্ছেন না পথচারীরা।
সোমবার (১৫ জুন) শাপলা চত্বর মোড় থেকে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা এবং মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
বিজ্ঞাপন
তবে একদিন পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরের পর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতগুলো দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন হকাররা।
দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের ফুটপাত ও রাস্তার পরিস্থিতিও একই দেখা গেছে৷ অথচ, একদিন আগে এই ফুটপাত ও রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছিল।
ফকিরাপুল পেট্রোল পাম্পের আশপাশের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বেশকিছু দোকানপাট বসে ব্যবসা করছেন হকাররা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় একজন দোকানদার বলেন, আগের দিন অভিযান শেষ হলেই হকাররা বসতে থাকেন। আজ সকাল থেকে পুরোদমে বসে গেছেন তারা।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের পাশের ফুটপাতগুলোতেও হকারদের ব্যবসা করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সিটি সেন্টারের সামনে বেশকিছু দোকানপাট বসানো হয়েছে।
স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মহসিন হোসেন বলেন, মতিঝিল এলাকার ফুটপাত নিজেদের সম্পত্তি মনে করেন হকাররা। রাস্তাও দখল করে দোকান বসিয়ে ফেলছেন। কোথাও দিয়ে ঠিকঠাক হাঁটা যায় না। তিনি বলেন, গতকালের অভিযানে ফুটপাতগুলো ফাঁকা হয়েছিল। কিন্তু আজ আবার সব দখল হয়ে গেছে।
হাসান মাহমুদ নামের আরেকজন বলেন, সিটি করপোরেশন অভিযান চালাবে এগুলো মনে হয় তারা (হকাররা) আগে থেকে জানে। কাল অভিযানের আগেই অনেককে দেখলাম সরে যেতে। পরে অভিযান শেষ হলে তাদের আবার চলে আসতে দেখলাম।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাতের হকারদের নিয়ন্ত্রণে কিছু সিন্ডিকেট আছে শুনি। তাদের কারণেই ফুটপাত দখলের সাহস পান হকাররা। তাই সিটি করপোরেশনের উচিত সিন্ডিকেটের জড়িতদের বের করে শাস্তির আওতায় আনা। পাশাপাশি অভিযানের পর নজরদারি করা দরকার। আর নয়ত অভিযান চালিয়ে কোনো লাভ নাই।

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর রাজধানীজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের টানা কয়েক দিনের সেই অভিযানে গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতগুলোর চিত্র পাল্টে গিয়েছিল। কিন্তু অভিযান শিথিল হতেই আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। পরে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও তাতে সাময়িক সময়ের দখলমুক্ত হয়।
তবে সিটি করপোরেশন বলছে, অভিযানের পাশাপাশি হকারদের বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এরই মধ্য হকার চিহ্নিত করে তাদের পরিচয়পত্র দিচ্ছে।
যদিও পুনর্বাসন কার্যক্রমের তেমন একটা গতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে ফুটপাতগুলো হকারদের দখলেই থেকে যাচ্ছে।
এএম/জেবি




