শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করা হলেও দেশের ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের গ্রাহককে এর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নিয়মিত মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, তবে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে অধিকাংশ সাধারণ গ্রাহককে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।’

শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


মন্ত্রী বলেন, ‘বিইআরসি একটি স্বাধীন ও আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তবে সরকারের অগ্রাধিকার ছিল নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব মূলত উচ্চমাত্রায় ব্যবহারকারী ও সচ্ছল গ্রাহকদের ওপর পড়বে, আর সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ বাড়তি ব্যয়ের চাপ থেকে মুক্ত থাকবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দেশগুলো নানা ধরনের চাপে রয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে অতীতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। এর ফলে দেশকে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি খাত পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সেই অনিয়মের প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে। পুরো খাতকে একটি স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবস্থার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন হলেও বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’


বিজ্ঞাপন


তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার একদিকে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে জনগণের ওপর চাপ কমিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবিলার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে এখনো সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দেশের আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিস্তৃতি বিবেচনায় এই ভর্তুকির চাপ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের প্রভাবও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

সরকার, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে সরকার নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম জনগণের কাছে সরকারের কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করব।’

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জনগণকে সচেতন ও অবহিত রাখতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বলানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিত, পরিমাণ ও ধরন তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

এম/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর