ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর ধীরে ধীরে আবারও ব্যস্ত রূপে ফিরছে রাজধানী ঢাকা। ঈদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুলে গেলেও গত দুদিন তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল নগরীর সড়ক পরিস্থিতি।
তবে আজ সকাল থেকে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দেখা গেছে সেই চিরচেনা ব্যস্ততা। যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি কর্মস্থলমুখী মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও ফিরতে শুরু করেছে যানজট ও ধীরগতির চলাচল।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওগাপাড়া, আগারগাঁও, ইসিবি চত্বর কুর্মিটোলা এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ট্রাফিক সিগন্যাল অতিক্রম করতে গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস টাইমে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল ও রাইড শেয়ারিং যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ঈদের ছুটিতে যে সড়কগুলো ফাঁকা ছিল, সেগুলোতেই এখন আবার স্বাভাবিক ব্যস্ততার চিত্র ফিরে এসেছে।

সড়কে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। মিরপুর ১০ গোল চত্বর এলাকায় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য জানান, ছুটির পর আজই প্রথম বড় ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকেই গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী সড়কে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যানবাহনের চাপ দেখা যায়। কালশী ও কুর্মিটোলা এলাকায় অফিসগামী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। যদিও যানজট এখনো অতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে ধীরগতির চলাচল স্পষ্ট।
বিজ্ঞাপন
বাসচালক ও হেলপারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটির পর যাত্রীসংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে। মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহন বাসের হেলপার সাকিল জানান, গত কয়েকদিন খুবই ফাঁকা ছিল। আজ সকাল থেকে যাত্রী বাড়তে শুরু করেছে। অফিস খোলার কারণে সামনে আরও চাপ বাড়বে।
বিহঙ্গ পরিবহনের বাস চালক আনিসুর রহমান বলেন, ছুটির পর প্রথম কয়েকদিন রাস্তায় চাপ কম ছিল, তাই স্বস্তিতে গাড়ি চালানো গেছে। কিন্তু আজ থেকেই বুঝতে পারছি আগের মতোই ব্যস্ততা ফিরে আসছে। ধীরে ধীরে আবার যানজটও বাড়বে।

অন্যদিকে মিরপুর এলাকায় যাত্রীদের মধ্যেও দেখা গেছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রী ইফুল ইসলাম জানান, তিনি ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিটা পরিবারের সঙ্গে ভালো কেটেছে। আজ সকালে রওনা দিয়েছি। খুব বেশি যানজট পাইনি, তবে ভাড়া কিছুটা বেশি লেগেছে।
একই এলাকায় কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আসা গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, ঢাকায় ফিরেছি কাজে যোগ দিতে। বাসে ভিড় খুব বেশি ছিল না, কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভাড়া বেশি নেওয়া হয়েছে। তবে রাস্তায় বড় ধরনের যানজট পাইনি।

রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতেও দেখা গেছে মানুষের চাপ। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে আসা বাসগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে সকাল থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এতে শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে চাপ তৈরি হয়।
সকালের ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষা লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও একাধিক সিগন্যাল পার হতে সময় লেগেছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে মিরপুর–১০, কাজীপাড়া ও আগারগাঁও এলাকায় গাড়ির গতি ছিল ধীর।
এএইচ/এআরএম




