মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার পচনধরা লাশ উদ্ধার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার পচনধরা লাশ উদ্ধার
মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার পচনধরা লাশ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুরো বাসায় ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে একাই থাকতেন। কিন্তু মা মারা যাওয়ার পরও মেয়ে টের পাননি এবং ওই কক্ষটিতেও দীর্ঘদিন কেউ প্রবেশ করেনি বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর সেকশন-৬ এর সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি মূলত ওই বৃদ্ধার মেয়ের। তারা মা-মেয়ে দুজনেই ওই বাসায় থাকতেন এবং সেখানে কোনো পুরুষ মানুষ ছিল না।


বিজ্ঞাপন


af83b56d-1b4f-4c0e-ae01-81a8ff9c89c1

ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মা এবং অন্য কক্ষে মেয়ে থাকতেন। বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। তবে মায়ের ঘরটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। পুরো কক্ষ ময়লা-আবর্জনা ও ছত্রাকে ভরা ছিল এবং পোকা-মাকড় জন্মেছিল, যা মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। বৃদ্ধা এক সপ্তাহ আগে মারা গেলেও মেয়ে কোনো খবর রাখেননি।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, "রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তার মাকে ডাকতে যান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন, কারণ তিনি ভেবেছিলেন মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানালে, স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।"

আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু: নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ


বিজ্ঞাপন


ওসি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে রইলেন, অথচ তিনি নাকে কোনো গন্ধ পাননি—এই বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের সচিব পদে কর্মরত এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তবে তারা কেউ মায়ের সাথে থাকতেন না। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েট শিক্ষক ছেলে ঘটনাস্থলে এলেও, সচিব ছেলে আসেননি।

এমআইকে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর