পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে এখনও ফাঁকা রাজধানীর ঢাকা। এ সময়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেননি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীরা। জীবিকার তাগিদে টাকার পাহারা দিতে রয়ে গেছেন কর্মব্যস্ত নগরীতে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন পেশা-জীবিকার যখন বাড়িতে তখনও তাদেরকে ঢাকাতে থাকতে হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) ঢাকার কয়েকটি এটিএম বুথ ঘুরে নিরাপত্তা কর্মীদের দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতেও জীবিকার তাগিদে দায়িত্ব পালন করছেন এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীরা। অনেক ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন আগের মতোই। এই ছুটির মধ্যেও থেমে নেই নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব। সাইন্সল্যাব, নিউমার্কেট, কলাবাগান, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ ও করপোরেট ভবনের সামনে নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। নির্জন পরিবেশে তাদের দায়িত্ব যেন আরও বেড়ে গেছে।
ছুটির সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলেও লেনদেন চালু থাকায় ব্যাংকের বুথে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে। অনেক নিরাপত্তাকর্মী দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ কেউ টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ডিউটি করছেন ঈদের ছুটিতে।
ঢাকা কলেজ সংলগ্ন বুথে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তাকর্মী নুরুল ইসলাম। ঈদের বাড়িতে যেতে না পারলেও তেমন আক্ষেপ নেই তার। কারণ ঈদের ছুটিতে দায়িত্ব করার জন্য অতিরিক্ত পেমেন্ট পাবেন তিনি।
জানতে চাইলে আব্দুল করিম ঢাকা মেইলকে বলেন, সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করছে, তখন আমরা দায়িত্বে আছি। চাকরির প্রয়োজনেই থাকতে হয়। ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সবাই ঢাকায় আসলে বাড়িতে যাব।
বিজ্ঞাপন
নিউমার্কেটে ব্রাক ব্যাংকের বুথে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী সাঈদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঈদে ছুটি পাইনি। তবে দায়িত্ব তো দায়িত্বই। মানুষ টাকা তুলতে আসে, বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে হয়।’
নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারের সদস্য। বাড়তি আয় কিংবা চাকরি রক্ষার তাগিদে তারা ঈদের ছুটিও কর্মস্থলে কাটান। পরিবার থেকে দূরে থাকলেও দায়িত্ব পালনে তাদের মধ্যে কোনো শৈথিল্য দেখা যায়নি।
এদিকে ফাঁকা ঢাকার সুযোগে চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। অনেক স্থানে সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের টহল বাড়ানো হয়েছে।
ঈদের আনন্দে যখন রাজধানী প্রায় জনশূন্য, তখনও কিছু মানুষ নিরবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ব্যাংকের ভল্ট, এটিএম বুথ কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিরাপদ রাখতে তারা জেগে আছেন দিন-রাত। উৎসবের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না পেলেও জীবিকার তাগিদে এবং দায়িত্ববোধে তারা টাকা পাহারা দিচ্ছেন টাকার নিঃশব্দে, নিরলসভাবে।
রুহুল আমিন। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। ঢাকা এসেছেন প্রায় ৮ বছর। বিভিন্ন জায়গায় পালন করেছেন নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্ব। বর্তমানে তিনি সাইন্সল্যাবে ইবিএল ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। ঈদে সবাই ছুটিতে গেলেও তিনি বাড়িতে যাননি।
জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, বাড়ি অনেক দূরে। ঈদে যেতেও অনেক টাকা ভাড়া লাগে, আবারও আসতেও অনেক টাকা লাগে। ঈদের পরে বাড়িতে যাবো। ঈদের দিন সবার খোঁজ খবর নিয়েছি। এছাড়া সবাইকে ভালো থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ঢাকায় চুরি-ডাকাতি বেড়ে যায়, তাতে আমাদেরকে দায়িত্ব থাকতে হয়। আমরা ছুটিতে গেলে ব্যাংকের নিরাপত্তা দিবে কে? আমরা সজাগ আছি।’
এসএইচ/এআরএম




