রাজধানীতে বিকেল থেকে পশুর চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এবারও দাম পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, তারা চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রি করতে আনা পর্যন্ত তাদের খরচ পড়ছে ৬০০ টাকা। আর তা বিক্রি করছেন ৬৫০ টাকায়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে লালবাগের পোস্তায় চামড়া বিক্রি করতে আসা বিভিন্ন মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ডেমরার মাদরাসা দারুল উলুম মহিউস সুন্নাহ মহিলা মাদরাসা থেকে এসেছিলেন মাওলানা নূরউদ্দিন আহমেদ। তিনি ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮০টি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য এনেছিলেন। পরে সেগুলো প্রতি পিস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু তাদের তার লাভ হয়েছে প্রতি পিস চামড়ায় মাত্র ৫০ টাকা।
তিনি বলছিলেন, আমাদের গাড়ি ভাড়া, সংগ্রহের খরচ, শ্রমিক খরচ মিলিয়ে দাম পড়েছে গড়ে ৬০০ টাকা। কিন্তু বিক্রি করেছি মাত্র ৬৫০ টাকায়।
তিনি আরও বলেন, এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে। আমরা কোনো লবণ পাইনি। প্রশিক্ষণও পাইনি। লবণ ও প্রশিক্ষণ পেলে চামড়া সংরক্ষণ করে হেমায়েতপুরে নিয়ে যেতাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা ও ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সারাদেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারাদেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।
বিজ্ঞাপন
যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসার শিক্ষক মো. জায়েদ আহমেদ বলেন, এবার বড় চামড়া প্রতি পিস ৬৮০ টাকা রেট দিয়েছে। কিন্তু ছোট চামড়া নিচ্ছে না। হিসেব করলে প্রতি পিস গড়ে ৬০০ টাকা পড়বে।
তার দাবি, তারা প্রতি পিস চামড়া সংগ্রহ ও পোস্তায় আনা পর্যন্ত খরচ পড়েছে ২৫০ টাকা। ফলে তা ৬০০ টাকায় বিক্রি করে তার খুব লাভ হয়নি। তার মতে, এই টাকায় সারা বছর একটি মাদরাসা চালানো সম্ভব নয়।
আবার কেউ কেউ ৭০০ টাকাতেও চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন। আবার কারও কারও চামড়া নিয়েছে ঠিকই কিন্তু সেগুলোর দাম না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুরান ঢাকার আগামাসি লেনের দাওয়াতুল কুরআন কওমি মাদরাসার শিক্ষক মো. জুনায়েদ বলেন, গড়ে ৭০০ টাকা করে রেট দিয়েছে। এখন চামড়া বেছে ছোটগুলো আলাদা করছে। সেগুলো নাকি ফেলে দেবে। আমাকে গড়ে দাম বলে এখন এ কাজটা করছে। এটা কি ঠিক? ২০ থেকে ২৫টি চামড়ার দাম তারা দেবে না। এই চামড়া আমি নিয়ে কোথায় যাব? বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
কামরাঙ্গীরচর থেকে ৩০০ চামড়া নিয়ে পোস্তায় এসেছেন মো. আব্দুল গাফ্ফার। তিনি বলেন, গড়ে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। কারণ এতগুলো চামড়া নিয়ে কোথায় যাব?
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, এ বছর আমরা গত বছরের দাম দিয়েই চামড়া কিনছি। চামড়ার মধ্যে সমস্যা থাকলে দাম কম হয়। সমস্যাযুক্ত চামড়া কিনলে পরবর্তীতে সেটা ফেলে দিতে হয়। ভালো চামড়া ভালো দামেই কিনছি। লবণ ও কেমিকেলের দাম বেশি হওয়ার কারণে চামড়ার দামটা কম।
তিনি দাবি করেন, এবার বাংলাদেশে চামড়ার কোনো সিন্ডিকেট নেই।
এমআইকে/এফএ




