রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ রাখায় সাফোকেশনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতালটির মানবসম্পদ ও গণসংযোগ বিভাগের পরিচালকের দাবি, এক মায়ের অনুরোধে প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখার পর অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সাফোকেশনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এসি বন্ধ রাখায় ছয় ওই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশও। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সিআইডির ক্রাইম টিম তদন্ত করছে এবং আলামত সংগ্রহ করছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ মে) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন গিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ৬ নবজাতকসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে অবস্থান করছিল। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এক মা। নার্স এক ঘণ্টার মতো এসি বন্ধ রাখে।
তিনি আরো বলেন, গরম লাগলে এসি চালু করতে বললে দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার নবজাতকও অসুস্থ হয়। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখানে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে। আলামত সংগ্রহ করছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালটির মানবসম্পদ ও গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলও একই তথ্য জানান।
ঢাকা মেইলকে তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল দিবাগত রাতের শেষ ভাগে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা বাচ্চাদের আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগের কারণে এসি বন্ধ রাখা হয়। এরপর দুঃখজনকভাবে সাফোকেশনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।’
এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বলে জানান তিনি।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, এই ঘটনায় কেউ সরাসরি দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ও সরকারের অন্যান্য বিভাগও ঘটনাটির তদন্ত করেছে।
ভোরের দিকে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে ঢাকা মেইলকে জানান রমনা থানার ওসিও রাহাৎ খান। ঢাকা মেইলকে ওসি বলেন, ভোরের দিকে শিশুগুলোর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসেছি।
এমআর




