শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

R

মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে রিপোর্টটি হস্তান্তর করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


রোববার (২৪ মে) আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান।

সিআইডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৯ মে শিশু রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাট থেকে তার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তাকে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়।


বিজ্ঞাপন


ঘটনার পরই পালিয়ে যান রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যাকারী সোহেল রানা। পরে পুলিশ তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করে। পরদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে অভিযুক্ত সোহেলকেও গ্রেফতার হয়। পরে আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ঘাতক সোহেল। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
 
ওইদিন দুপুরে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে আলাদা দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি আবেদন আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার ও অপর আবেদনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।

জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। এর মধ্যে শিশু রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করেন। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন।

ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

এদিকে রামিসার সঙ্গে এমন নৃশংসতার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছে বিভিন্ন মহল। এ নিয়ে শুক্রবার সারাদিন পল্লবী এলাকা ছিল উত্তপ্ত।

তারই মাঝে শনিবার (২৩ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ময়মনসিংহে একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার এক মাসের মধ্যে করা হবে। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এএইচ  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর