বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেওয়া হলো। বুধবার (২০ মে) রাত ৯টায় জাতীয় গ্রিডে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৩ জুলাই ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল। যা ছিল সে সময় দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
বিজ্ঞাপন
নতুন রেকর্ডের মাধ্যমে আগের সর্বোচ্চ উৎপাদনকে ছাড়িয়ে গেছে ৪০৬ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন: বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব
বুধবার (২১ মে) রাতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময়ে আবাসিক এলাকায় এসিসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ায় চাহিদা আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি চাহিদা সামাল দিয়ে নতুন রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বিত কার্যক্রমও এ সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রের সক্ষমতা ও সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
এদিকে বুধবারই (২১ মে) বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা বা ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এদিন রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্র্নিধারণের গণশুনানিতে এই প্রস্তাব করা হয়।
তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিল্প উদ্যোক্তা এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনের নেতারা।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে এবং শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
এএইচ




