শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

Khelaghor
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘খেলাঘর’ আসরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর নিরাপদ জীবন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, যৌন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুখী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’ আসরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর নিরাপদ জীবন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন।


বিজ্ঞাপন


সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাঘরের চেয়ারপারসন গবেষক ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. লেনিন চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, ড. মো. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, রেজাউল কবীর, সাংবাদিক উম্মুল ওয়ারা সুইটি, ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী এবং শিশু প্রতিনিধি অদ্রিতা রায়সহ অনেকে।

সেমিনারে শিশুদের উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, শিশুদের উন্নয়নে শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কতটুকু কাজ করছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। শিশুদের নিরাপদ রাখতে খেলাঘর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু একটি সংগঠনের পক্ষে এ দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। সরকার, জনগণ এবং অভিভাবকদেরও একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

কাজী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারিভাবে শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু তারা কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, তা স্পষ্ট নয়। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ পথশিশু। এছাড়া ২০ লাখ ৯০ হাজার শিশু গৃহকর্মে এবং ৩৫ লাখের বেশি শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে ৩৩ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন। একইসঙ্গে শিশু ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, অনলাইন আসক্তি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু কোনো না কোনোভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার, নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক অসচেতনতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

বক্তারা শিশুদের সুস্থ বিকাশ, নিরাপদ বেড়ে ওঠা এবং আনন্দময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এএইচ/ক.ম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর