পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আরও দুই সপ্তাহ। তবে এর মধ্যেই নগরবাসী পশুর খোঁজ নেওয়া শুরু করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আজ রাজধানীর বিভিন্ন খামারে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা মাঝারি আকারের গরুর খোঁজ বেশি নিচ্ছেন। তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পশু কিনতে চায় নগরবাসী। এজন্য আগেভাগে পছন্দের পশু কোরবানির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় তারা।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি খামার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
খামারিরা বলছেন, আমরা কোরবানি ঈদকে ঘিরে সব সময় বড়, মাঝারি ও ছোট গরু বিক্রির জন্য রাখি৷ কিন্তু অন্যান্য বারের চেয়ে এবার দেখছি ক্রেতাদের মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি৷ প্রায় ৯০ ভাগ ক্রেতা এসে এক লাখ থেকে দুই লাখের মধ্যে মাঝারি আকারের গরু খুঁজছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে খামারে এসে গরু দেখছেন অনেকে। গরুর স্বাস্থ্য, ওজন, দাঁত ও খাবারের মান যাচাই করে দরদাম করছেন তারা।
তারা বলেন, অন্যান্য ঈদগুলোতে বড় গরুর চাহিদা ছিল। সেই হিসেবে বড় গরু তুলেছেন। তবে বড় গরু নিয়ে এবার খামারিরা বিপাকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তবে ঈদের হাট বসলে সেটা বোঝা যাবে বলে মনে করেন খামারিরা।
মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় মদিনা ক্যাটেল নামে একটি গরুর খামারে গরু কিনতে এসেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার সীমিত বাজেটের মধ্যে কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসেবে কয়েকটা খামার ঘুরে গরু দেখছি। তবে বড় গরুর উচ্চমূল্যের কারণে আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে মাঝারি গরুই আমার প্রথম পছন্দ। এই বাজেটের মধ্যে না হলে আরেকটু বাজেট বাড়িয়ে কিনতে হবে।
একই এলাকার শিকদার ক্যাটেল নামে আরেকটি খামারে কথা হয় জাবেদ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাটে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে গরু কেনার চেয়ে খামারে এসে দেখে-শুনে কেনা ভালো। খামারগুলোতে বড় থেকে মাঝারি ও ছোট আকারের গরু পাওয়া যায়। এজন্য আজকে ছুটির দিন হওয়ায় খামারে চলে এসেছি। বড় গরুর দাম অনেক। ১০০-১৫০ কেজি ওজনের গরুর খুঁজছি। বড় গরু কিনতে গেলে অনেক দাম দিতে হবে। তাই মাঝারি গরুর দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয় হওয়ায় সেটাই খুঁজছি। কারণ, মাঝারি গরু পরিবারের সবার পছন্দ। আশা করছি নির্ধারিত বাজেটে মাঝারি আকারের গরু কিনতে পারবো।
এছাড়াও বসিলা এলাকার দ্যা নিউ ক্যাটেলে কথা হয় পারভেজ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজকে ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খামারে খামারে ঘুরছি। নিজের সাধ্যের মধ্যে মাঝারি সাইজের গরু পেলে একটা নিয়ে নেব। তবে এবার খামারগুলোতে দেখছি বড় সাইজের গরুর পাশাপাশি মাঝারি সাইজের গরু কম। ছোট সাইজের অনেক নেপালি গরু আছে। যেগুলোর দামও তুলনামূলক বেশি। সব মিলিয়ে বাজেটের মধ্যে মাঝারি সাইজের গরু পেয়ে গেলে ভালো হবে। না হয় বাজেট কিছুটা বাড়াতে হবে।
বসিলা এলাকায় দ্যা নিউ ক্যাটেলের মালিক আনিসুজ্জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখলাম, ঈদে মাঝারি গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তাই এবার আমাদের খামারে মাঝারি আকারের বেশি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা মাঝারি সাইজের গরু অগ্রিম বুকিং দেওয়া শুরু করেছে। ক্রেতারা এসে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর খোঁজ করছেন বেশি। আমরা বড় গরুর পাশাপাশি মাঝারি গরু তুলেছিলাম। আশা করছি মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় গরুর চাহিদাও থাকবে।
এই খামারি মালিক বলেন, ক্রেতারা এখন সচেতন। তারা স্বাস্থ্যকর ও দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা গরু চাইছেন। তাদের পছন্দের মধ্যে মাঝারি গরু হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তারা মনে করেন মাঝারি সাইজের গরু দেশি জাত। এজন্য এই সাইজের গরু খুঁজছেন ক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার নিউ এগ্রোর মালিক রবিন মিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারগুলোতে গরু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আজকে ছুটির দিন হওয়ায় অনেকে পরিবার নিয়ে খামারে গরু দেখতে আসছেন। আমাদের খামারে প্রতি বছর মাঝারি সাইজের গরু রাখা হয়৷ এবার মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় সাইজের কয়েকটা গরু রেখেছি৷ কিন্তু এখন দেখছি মাঝারি সাইজের অনেক গরু বুকিং হয়ে গেছে। অথচ, বড় সাইজের গরু এখনো তেমন কেউ দরদাম করছে না। আশা করছি মাঝারি সাইজের গরুর পাশাপাশি বড় সাইজের গরু বিক্রিও হয়ে যাবে।
একেএস/জেবি




