প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনায় যেতে চায় সরকার। তিনি বলেন, চুক্তি পুরোপুরি বাতিলের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে যেসব ধারা রাষ্ট্রের জন্য সমস্যাজনক বা ক্ষতিকর বলে মনে হচ্ছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিলের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকারের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় পথটিই বেশি বাস্তবসম্মত বলে তিনি মনে করেন। আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি, আগে সরকারি পর্যায়ে চুক্তিটা পর্যালোচনা করা দরকার। কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, কোন ধারা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে আলোচনা করা যেতে পারে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে কথা বলেছি। সরকারের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চুক্তি বাতিল করলে এর কী প্রভাব পড়তে পারে, কিংবা কোন প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। সরকার প্রথমে অভ্যন্তরীণভাবে চুক্তির বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করবে। এরপর যেসব শর্তকে সমস্যাজনক মনে হবে, সেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় বাংলাদেশ।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাতিল করাটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নিয়ে যে সংকট রয়েছে, সেটাকে আবার সামনে নিয়ে আসতে পারে। তাই আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে চাই।
বিজ্ঞাপন
চুক্তির ধরন নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সব আন্তর্জাতিক সমঝোতা এক ধরনের নয়। কিছু আছে এগ্রিমেন্ট, কিছু আছে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ। এদের মধ্যে অনেকগুলোর আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে। ফলে কোনো কোনো চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় চুক্তিতে থাকার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিছু কিছু চুক্তির নির্দিষ্ট অংশ গোপন রাখার শর্তও থাকে। তবে জনগণের জানার অধিকার এবং সংসদে উত্থাপনের সাংবিধানিক সুযোগও রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন অতীতের সব চুক্তি ও সমঝোতা সরকার মূল্যায়ন করবে। যেসব সমঝোতা স্মারক থেকে সহজে বেরিয়ে আসা সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এএইচ/এআরএম




