দীর্ঘদিনের পদোন্নতি–বঞ্চনার আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের নিচের সারির সদস্যদের। চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত এক ধাপ উচ্চ পদমর্যাদার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পদে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় উত্থাপিত এ প্রস্তাবে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১০ মে) দুপুরে পুলিশ হলে অনুষ্ঠিত পুলিশ কল্যাণ সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। সভায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদে থাকা সদস্যদের অবসরের আগে এক ধাপ উপরের পদে অনারারি পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তাব তোলা হলে কেউ আপত্তি জানাননি। ফলে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় বলে জানা গেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কনস্টেবল পদে অবসর নেওয়া সদস্য এএসআই, এএসআই পদে থাকা সদস্য এসআই, এসআই পদে থাকা সদস্য ইন্সপেক্টর এবং ইন্সপেক্টর পদে থাকা সদস্য এএসপি পদমর্যাদা পাবেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা মেইলকে জানান, প্রথমে এক নারী কনস্টেবল এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ চাকরি জীবন পার করেও অনেক সদস্য কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পান না। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিব বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
সভায় আরও বলা হয়, পুলিশে পদোন্নতির জন্য নিয়মিত পরীক্ষা দিতে হলেও শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই পদোন্নতি নিশ্চিত হয় না। জ্যেষ্ঠতা ও সীমিত পদের কারণে বহু সদস্য দীর্ঘদিন একই পদে থেকে যান। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই অবসরের আগে সম্মানসূচক পদোন্নতির দাবি তোলা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সুপার ঢাকা মেইলকে বলেন, পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবলরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হন। অনেকে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও পদোন্নতি পান না। তাই অন্তত অবসরের সময় যেন তারা সম্মানজনক স্বীকৃতি পান, সেই চিন্তা থেকেই এ প্রস্তাব এসেছে।
তবে অনারারি পদোন্নতি পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও জানা গেছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলেই সংশ্লিষ্ট সদস্যরা এ সুবিধা পাবেন।
এদিকে পুলিশ কল্যাণ সভায় রেশন সুবিধা বৃদ্ধি, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এমআইকে/জেবি




