শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

শেয়ার করুন:

Nakvi

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন রাজা নাকভি দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ ঢাকায় এসেছেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকরা।

দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে শুক্রবার (৮ মে) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার স্ত্রীও রয়েছেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ১২ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন নাকভি।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ-পাকিস্তান মিরপুর টেস্ট শুরুর সকালে মাঠে এসে খেলা উপভোগ করেছেন তিনি। যদিও বিসিবির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি নেই; তবু খেলা দেখার পাশাপাশি আলাপচারিতার সুযোগ তো থাকছেই।

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুরে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মহসিন নাকভির একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো দুই দেশের মধ্যে মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্র এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধে এই চুক্তিটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া মাদকের রুটগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়াবা, আইস এবং হেরোইনের নতুন রুট ও নেটওয়ার্কের কারণে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং পাচার রুট শনাক্তকরণে যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উগ্রবাদী প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ শনাক্ত করার কাজ অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন এই সফর সম্পর্কে বলেন যে, মাদক ও সন্ত্রাসবাদ এখন আর কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি একটি আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা হুমকি। বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমনে যে সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, এই দুইয়ের সমন্বয়ে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, এই সমঝোতা যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে একটি কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মহসিন রেজা নাকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একটি বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে দুই দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সফর শেষে আগামীকাল শনিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। উল্লেখ্য, এই সফরের আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এই খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পথকে আরো প্রশস্ত করেছে।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর