সকালের পূর্বাভাস যেন দুপুরেই বাস্তবে রূপ নিল। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১টার কিছু পর থেকেই হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে ওঠে রাজধানী ঢাকা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে, শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। যা নগরজীবনে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে ভোগান্তির চিত্রও একসঙ্গে তুলে ধরে।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বাড্ডা, রামপুরা ও হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে নামা এই বৃষ্টিতে পথঘাট দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা হঠাৎ বৃষ্টিতে পড়েন বিপাকে। কেউ ছুটে আশ্রয় নেন ফুটপাতের দোকান, বাসস্ট্যান্ড কিংবা ভবনের ছাউনির নিচে, আবার অনেকেই কোনো উপায় না পেয়ে কাকভেজা অবস্থায় গন্তব্যের পথে এগিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন

বৃষ্টির প্রভাবে নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় সাময়িক জলজট, বিশেষ করে নিচু এলাকায় পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গণপরিবহন পেতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা, বাড়ে অপেক্ষার সময়। রিকশা ও সিএনজি চালকরাও বাড়তি ভাড়া হাঁকতে দেখা যায় অনেক জায়গায়।
এর আগে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছিল, ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
সকাল ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ। আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই বৃষ্টির পর কিছুটা কমে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে টানা গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর এই বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
তবে এই স্বস্তির মাঝেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা। সামান্য সময়ের বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়া, যানজট সৃষ্টি হওয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়া—এসব যেন রাজধানীর চেনা চিত্র।
দিনের শেষে বলা যায়, প্রকৃতির এই হঠাৎ রূপ বদল যেমন গরম থেকে কিছুটা মুক্তি দিয়েছে, তেমনি নগরজীবনের দুর্বলতাগুলোও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
এমআর/এআরএম




