রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

চাঁদাবাজ-মাদক কারবারি-সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চাঁদাবাজ-মাদক কারবারি-সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

‎চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও মাদকের নেপথ্যে মূলহোতা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অনলাইন  জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, গত ১ মে থেকে এ চার শ্রেণির অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।

‎রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গত ১ মে থেকে ডিএমপি’র পুরো এলাকা জুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়ার চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

‎তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ চাঁদাবাজি, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াড়িসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নিমিত্তে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, অপরাধ চক্রের মূল উৎপাটন করে নাগরিক জীবনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকা মহানগরকে আরো নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান এবং আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা, ক্ষেত্রবিশেষে চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন আসামিদের তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই করে বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা বড় অপরাধী তাদেরকে নরমাল প্রসিডিউর অনুযায়ী মামলা করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ডিবি, সিসিটিসির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া প্রতারণা এবং সংগঠিত অপরাধে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

‎তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল কেন্দ্রিক ব্যবসা এবং চিহ্নিত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিসিটিসি টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং ৯৪ জন সহযোগী চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। যেগুলোর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলার আলামত হিসেবে কোর্টে প্রডিউস করা হবে।

‎এ সময় তিনি পুলিশের কিছু সাফল্য তুলে ধরে বলেন, গতকাল একটি অভিযানে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আগে ছোট পরিমাণ মাদক বা মাদকসেবীদের বা ছোট ছোট বিক্রেতাদের গ্রেফতার করা হতো। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে বা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ কেজির উপরে গাঁজা এবং আধা কেজি হিরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। একেকটা ঘটনায় মাদক এবং অস্ত্রউদ্ধার অভিযানে অন্যান্য দ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

‎তিনি আরো বলেন, মাদক কারবারিদের পেছনে যারা গডফাদার আছে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে সিআইডিসহ আমাদের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সসহ আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনলাইনে জুয়া পরিচালনাকারী এবং ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদেরকে আটক করা হচ্ছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার ও নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা এবং কারওয়ান বাজার এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরো কয়েকটি জায়গায় শীঘ্রই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

‎একেএস/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর