বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জুলাই সনদ উপেক্ষা করে সংস্কার প্রস্তাব ‘প্রতারণা’: সংসদে আইনমন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

Law minister
আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো.আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো.আসাদুজ্জামান বলেছেন, “জুলাই সনদ” উপেক্ষা করে উত্থাপিত সংস্কার প্রস্তাব সংবিধান ও আইনের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।


বিজ্ঞাপন


তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষের প্রস্তাবে গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রতিফলিত হয়নি এবং এতে জাতীয় ঐকমত্যের পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২৬-এ বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, তাতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে-যা নিয়ে কার্যত কোনো বিরোধিতা হয়নি। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় কারা দেশের পক্ষে এবং কারা বিরোধিতায় ছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময় পার করছি, যেখানে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে ঐক্য প্রয়োজন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।’

সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষের বিতরণ করা ১১ দলীয় জোটের লিফলেটে সংস্কারের কথা বলা হলেও সেখানে “জুলাই সনদ”-এর উল্লেখ নেই। তিনি এটিকে “সংবিধান ও আইনের সঙ্গে প্রতারণা” হিসেবে উল্লেখ করেন। 

গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, উত্থাপিত চারটি প্রশ্নের অধিকাংশের সঙ্গে তাদের আপত্তি না থাকলেও একটি প্রশ্ন আংশিক বিভ্রান্তিকর।

রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন-অর্থনীতির পুনর্গঠন, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ-সেগুলোর পরিবর্তে অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে বিতর্ক হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কথা বলার কথা ছিল কিভাবে চার কোটি মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ড আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, কৃষক কার্ডের সুফল নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা কম হচ্ছে।’

তিনি সকল রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে হলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার বিকল্প নেই। আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকতে হবে।’

এমএইচএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর