বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৪২ হাজার মামলা: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৪২ হাজার মামলা: আইনমন্ত্রী
সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান / ছবি: সংগৃহীত

দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন ছিল বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।


বিজ্ঞাপন


ফৌজদারি কার্যবিধি আইন (সংশোধন), ২০২৬ বিষয়ে আসাদুজ্জামান জানান, এতে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। হলফনামার মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া, ডিক্রি জারির জন্য পৃথক মামলা না করে মূল মামলায় সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের বিধান যুক্ত হয়েছে।

মামলার জট নিরসন

আইনমন্ত্রী জানান, মামলার জট নিরসনে ৮৭১টি আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। আরো ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন। নতুন ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে অধস্তন আদালতের স্টেনো-টাইপিস্ট, স্টোনোগ্রাফার, অফিস সহায়ক ও চালকের শূন্যপদে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন পদে আরো ৫৫৩ কর্মচারী নিয়োগ চলমান আছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং মামলার জট নিরসনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


বিজ্ঞাপন


আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ আলোচিত মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার দ্রুত করতে সলিসিটরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি সহায়তা সেবা জোরদারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো, অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য ‘১৬৬৯৯’ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইনে আনা হয়েছে। ফলে এখন ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানা সম্ভব হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে এবং হয়রানি কমাতে সহায়তা করছে।

Speaker

বিচারকদের বদলি ও পদায়ন

বিরোধীদলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে, ফ্যাসিস্ট সরকার বিচারকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকে মুখ্য মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে দলের প্রতি অনুগত বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতো। যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সেই পথ ধরে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সততা-দক্ষতা এবং বিচারকদের বিচারিক আচরণই হবে মানদণ্ড। সেই লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে সুপারিশ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের। সরকারের এক্ষেত্রে একক ক্ষমতা নেই।

অকার্যকর-অপ্রাসঙ্গিক আইন চিহ্নিতকরণ

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের যেসব আইন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়ন করবে। এ লক্ষ্যে আইন কমিশন কাজ করছে এবং কমিশন থেকে সুপারিশ প্রাপ্তির পর সরকার তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে ৪৬৭ বিচারককে পেশাগত দক্ষতা, আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বিচার কার্য পরিচালনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৯৩ বিচারককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

Parliament

২ জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু

তিনি জানান, বর্তমানে দুটি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় পারিবারিক মামলা দায়ের, শুনানিসহ মামলার যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার ফলে মামলা পরিচালনা আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কম খরচে সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও দূরবর্তী এলাকার মানুষ এই সুবিধার মাধ্যমে সহজে বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। বিচারব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিসিয়ারি’ শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

মিথ্যা মামলার পরিসংখ্যান নেই

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে এবং ভুয়া মামলাগুলোর মধ্যে কত সংখ্যক মামলা তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।

টিএই/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর